নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকায় মৃত ভেবে এক মুমূর্ষু ও রক্তাক্ত বৃদ্ধকে নির্জন স্থানে ফেলে গুমের চেষ্টার অভিযোগে একটি মাইক্রোবাসের চালককে আটক করেছে স্থানীয়রা।
বুধবার সকালে উপজেলার বাগদি এলাকার পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। পরে উত্তেজিত জনতা চালককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাগদি এলাকার সড়কের পাশে একটি মাইক্রোবাস থামিয়ে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় থাকা এক বৃদ্ধকে রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন চালক। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা সন্দেহবশত এগিয়ে গিয়ে চালককে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দেয় এবং পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পলাশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালককে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং আহত বৃদ্ধকে দ্রুত পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধ মারা যান।
পুলিশ জানায়, আটককৃত চালকের নাম মনির হোসেন। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের মৃত জলিল হাওলাদারের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন দাবি করেন, ঢাকার গাবতলী এলাকায় একটি পাম্পের সামনে চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি মুমূর্ষু অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে তার গাড়িতে তুলে দেন। তাদের অনুরোধে তিনি বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে পথে পুলিশের ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কায় ভীত হয়ে তিনি নরসিংদীর নির্জন স্থানে বৃদ্ধকে ফেলে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মাইক্রোবাস চালককে আটক করা হয়েছে। নিহত বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”