শিল্পকারখানা অধ্যুষিত সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে পোশাক কারখানাগুলোয় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারখানায় ১৫-২০ শতাংশ উৎপাদন কম হচ্ছে।
সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত বৃহৎ পোশাক কারখানা একেএইচ গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবুল কাশেম জানান, জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাপক লোডশেডিংয়ের জন্য প্রতিদিন গড়ে ১০ শতাংশ উৎপাদন কম হচ্ছে। জ্বালানি সংকটে পণ্য পরিবহন সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, পোশাক কিছুটা কম তৈরি হলেও সমস্যা নেই কিন্তু সে পোশাক সময়মতো শিপমেন্ট করতে না পারলে বড় সমস্যা। জ্বালানি তেলের অভাবে সকালের পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান বিকালে পাঠাতে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় পথেই তেল শেষ হওয়ায় কাভার্ড ভ্যান আটকে যাচ্ছে। এ কারণে সঠিক সময়ে শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না। ফলে বিদেশি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সংকটে পোশাক কারখানাগুলো মহাবিপদে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাকশিল্প খাত সচল রাখার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাভার পৌর এলাকার বৃহত্তর শিল্পপ্রতিষ্ঠান আল মুসলিম গ্রুপ ও জেকে গ্রুপের কারখানায় সরেজমিন দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় তারা নিজস্ব গ্যাসচালিত জেনারেটর দিয়ে কারখানায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এ বিষয়ে আলাপকালে জেকে গ্রুপের কারখানার মহাব্যবস্থাপক মাহবুব আলম জানান, জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের পোশাক কারখানায় উৎপাদন কম হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন এক লাখের বেশি পিস পণ্য উৎপাদন হতো, সেখানে এখন ৮০ থেকে ৯০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। শুধু উৎপাদনই নয়, জ্বালানি সংকটের কারণে তৈরি পণ্য শিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রামে পাঠাতে পণ্য বহনকারী কাভার্ড ভ্যান তেলের জন্য পথিমধ্যে আটকে পড়ছে। ফলে সময়মতো পণ্য ডিপোতে পৌঁছাতে পারছে না। এ কারণে অনেক কারখানার মালিককে তৈরি পণ্য নিজ খরচে এয়ারে পাঠাতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণে গ্যাস দিয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়েও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিদেশি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে না। ফলে পোশাক কারখানার মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কর্ণপাড়ার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্টিচেস লিমিটেড পোশাক কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে উৎপাদন করছে। কারখানার প্রধান উৎপাদন পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এভাবে আর কয়েক দিন চলতে থাকলে পোশাক কারখানা চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে। প্রতিদিন এ কারখানায় ১৫-২০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হলেও এখন কমে ১০ হাজার পিসে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আকতার উজ্জামান লস্কর বলেন, চাহিদার চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। শিগগির উৎপাদন বাড়বে এবং ঘাটতি পূরণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।