হোম > সারা দেশ > খুলনা

বিএনপি-জামায়াতের জোর প্রচারে সরগরম ভোটের মাঠ

ঝিনাইদহের চার আসন

আরিফুল আবেদীন টিটো, ঝিনাইদহ

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জমে উঠেছে ভোটের প্রচার কার্যক্রম। নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে-ঘাটে ছুটছেন বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ অভ্যুত্থানপন্থি বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। হোটেল, চা-দোকান ও হাটবাজার—সব জায়গায় শুধু ভোটের আলাপ। কে হচ্ছেন তাদের প্রতিনিধি, কে যাচ্ছেন সংসদে—এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। আর বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।

জেলার ছয় উপজেলা নিয়ে গঠিত চারটি আসনে বেশ আগেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। সব আসনে দাঁড়িপাল্লার কাণ্ডারিরা মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে চার আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর নির্বাচনের মাঠ সরব হয়ে উঠেছে। জেলার চার আসনেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। একটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হলেও ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন অপর এক বিএনপি নেতা। তা নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে।

ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা)

আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন দলটির সাবেক কেন্দ্রীয় মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সদস্য জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু এবং কেন্দ্রীয় কৃষক দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান আলী বিশ্বাস। তারা সবাই ভোটের মাঠে সরব ছিলেন। সবাইকে টপকে আসাদুজ্জামান ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ দলীয় টিকিট নিশ্চিত করেছেন। তবে জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়ে ২৪ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেও তিনি শেষ পর্যন্ত তা আর জমা দেননি। সব ভেদাভেদ ভুলে আসনটি নিজেদের করে পেতে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী বর্তমানে ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন।

জামায়াত শৈলকূপা উপজেলা শাখার আমির এএসএম মতিউর রহমানকে চলতি বছরের শুরুর দিকে দলের টিকিট দেওয়া হয়েছে। প্রচার চালানোর জন্য হাতে যথেষ্ট সময় পেয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচনি এলাকার মাঠ-ঘাট চষে বেড়িয়েছেন তিনি। ভোটের মাঠও তিনি গুছিয়ে ফেলেছেন বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেন। নানাভাবে প্রচার চালিয়ে এবারের নির্বাচনে তিনি নিজেকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে ভোটাররা মনে করছেন।

এছাড়া আসনটিতে এবি পার্টির মতিয়ার রহমান, জাতীয় পার্টির মনিকা আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সহিদুল এনাম পল্লব মিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আসাদুজ্জামান বর্তমানে মাঠে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঝিনাইদহ-২ (হরিণাকুণ্ডু ও সদর)

জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটি বিএনপি শরিকদের জন্য ছেড়ে দিতে চেয়েছিল বলে গুঞ্জন উঠলেও অবশেষে দলটির জেলা শাখার সভাপতি এমএ মজিদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এ আসনে দলীয় প্রার্থী পেয়ে বর্তমানে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দারুণ উজ্জীবিত। দিন-রাত পাড়া-মহল্লায় চলছে ধানের শীষের প্রচার। এই আসনটি বিএনপির পুরাতন ঘাঁটি। যে কারণে এবারের নির্বাচনে স্থানীয় বিএনপি চায় ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ধানের শীষের ফসল নিজেদের ঘরে তুলতে। ফ্যাসিবাদের আমলে নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীরা এবার আসনটি নিজেদের মতো করে পেতে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন।

অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী এখানে জেলা শাখার আমির আলী আজম আবু বকরকে প্রার্থী করেছে। তিনি আসন্ন ভোটযুদ্ধে নিজেকে ভোটারদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে মেলে ধরেছেন। তিনি দিন-রাত নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, ছড়াচ্ছেন উত্তাপ। ইতোমধ্যেই এই আসনটিতে একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের মাঝে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

এছাড়া আসনটিতে বাসদের আসাদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এইচএম মমতাজুল রহমান, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবু তোয়াব ও জাতীয় পার্টির সাওগাতুল ইসলাম ভোটের মাঠে জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তারাও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন।

ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর)

আসনটি জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে দলটির নিজস্ব বিশাল ভোট ব্যাংক আছে। এর বাইরে দোদুল্যমান ভোটারদের সমর্থন পেতে দেওয়া হয়েছে হেভিওয়েট প্রার্থী। দলটির জেলা শাখার সাবেক নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক মাওলানা মতিয়ার রহমানকে দাঁড়িপাল্লার নমিনি করা হয়েছে। তিনি প্রায় এক বছর ধরে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন। এখানে যেকোনো প্রার্থীকে তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তরুণ রাজনীতিবিদ মেহেদী হাসান রনি। তিনি এখানে চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রয়াত শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে। তবে আসনটিতে ধানের শীষের টিকিট চেয়েছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির সহ-তথ্য সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মমিনুর রহমান মোমিন, জাসাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী মনির খানের মতো হেভিওয়েট নেতারা।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর আসনটিতে গণঅধিকার পরিষদের সুমন কবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সরোয়ার হোসেন ও এবি পার্টির মুজাহিদুল ইসলাম জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের একাংশ)

আসনটি গণঅধিকার পরিষদ থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী রাশেদ খানকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। দল আসন ছাড়লেও পিছু হটতে নারাজ জাতীয়তাবাদী নেতাকর্মীরা। রাশেদের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। তারা এই মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে অব্যাহত বিক্ষোভও করছেন। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। তিনিই এখন আসনটির স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জামায়াত এখানে কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার নায়েবে আমির মাওলানা আবু তালিবকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। প্রায় এক বছর ধরে প্রচার চালিয়ে ভোটারদের মধ্যে জাগরণ তৈরি করতে পেরেছেন বলে দাবি তার অনুসারীদের। দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, এমনিতেই জামায়াত মাঠ গুছিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রচার চালিয়ে সাড়া জাগিয়েছে, এর ওপর বিএনপির অন্তর্কোন্দল তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে।

এছাড়া অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও আসনটিতে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে সেটা চোখে পড়ার মতো নয়।

কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিদেশি মদসহ আটক ১

ডিবির অভিযানে ৪৯৭ বোতল কোরেক্স জব্দ, গ্রেপ্তার ২

১২ বছর ভাত না খেয়ে থাকা বিএনপি সমর্থক নিজাম মারা গেছেন

মরা মুরগি ফেলে নদী দূষণ, ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কারের নির্দেশ

মহেশপুর সীমান্তে যুবকের লাশ উদ্ধার

সুন্দরবনের রিসোর্ট মালিক ও পর্যটক অপহরণের মূলহোতা আটক

মেহেরপুরে গুলিসহ পিস্তল উদ্ধার, আটক ১

অসুস্থ শিশুকে দেখতে মোংলায় জামায়াত প্রার্থী

চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

খাদ্য সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে কালোমুখো হনুমান