এই প্রথম কোনো বাঘকে সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়া
হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে গুরুতর আহত হওয়া সুন্দরবনের একটি বাঘিনীকে দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর আবারও প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দিচ্ছে বন বিভাগ। আগামীকাল রোববার সকালে সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হবে।
শুক্রবার গাজীপুর সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড বাঘিনীটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং বনে অবমুক্ত করার উপযোগী বলে প্রত্যয়ন দেয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, গত ছয় মাস ধরে সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বাঘিনীটির চিকিৎসা ও পরিচর্যা করা হয়েছে। বর্তমানে এটি শতভাগ সুস্থ। মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদনের পর ১২ জুলাই সকালে চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হবে।
শুক্রবার বিকেলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামও নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে আহত বাঘিনীটি আবারও সুন্দরবনে ফিরে যাচ্ছে।
জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকিরখাল এলাকায় হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে প্রায় ১০ বছর বয়সি বাঘিনীটি। ফাঁদে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় তার সামনের বাঁ পায়ের চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরদিন ৪ জানুয়ারি বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল বাঘিনীটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসা, ড্রেসিং, পুষ্টিকর খাবার এবং নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে বাঘিনীটি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৯ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঘিনীটির ওজন বেড়ে প্রায় ৯০ কেজি হয়েছে। তার চলাফেরা ও শিকার ধরার স্বাভাবিক সক্ষমতাও ফিরে এসেছে। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশে সে স্বাভাবিকভাবেই টিকে থাকতে পারবে।
আগামী ১২ জুলাই সকালে খুলনা থেকে নদীপথে বাঘিনীটিকে আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে নিয়ে অবমুক্ত করা হবে। এ সময় বন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে এই প্রথম সুন্দরবনের কোনো আহত বাঘকে সফলভাবে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে আবারও বনে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এমএইচ