অপহরণের চার দিন পর
রহস্যজনক অপহরণের চার দিন পর দর্শনা থেকে শেকল বাঁধা এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি মো. বিপুল (৪৫)। তিনি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের বটিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও আব্দুস সাত্তার মণ্ডলের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর পোস্ট অফিস এলাকায় ছিলেন। সেখান থেকেই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ মিলছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে আলমডাঙ্গা থানায় একটি মিসিং জিডি করা হয়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দর্শনা পৌরসভার হঠাৎপাড়া এলাকার পাকা রাস্তার পাশে হাতপায়ে শিকল দিয়ে বাধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। প্রথমে দূর থেকে দেখে অনেকে ভেবেছিলেন কোনো ভবঘুরে ব্যক্তি পড়ে আছেন। কাছে গিয়ে হাত-পায়ে শিকল বাধা অবস্থায় দেখে হতবাক হয়ে যান তারা।
স্থানীয়রা বলেন, রাতের অন্ধকারে রাস্তার পাশে একজন মানুষ পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখি হাতপায়ে লোহার শিকল বাঁধা। তখনই আমরা পুলিশে খবর দিই। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দর্শনা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, দর্শনা হঠাৎপাড়া এলাকা থেকে হাত-পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় একজন ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আলমডাঙ্গা থানায় তার নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি জিডি ছিল। বিষয়টি জানার পর তাকে আলমডাঙ্গা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, চারদিন আগে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মিসিং জিডি করা হয়েছিল। আমরা দর্শনা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর পোস্ট অফিস এলাকা থেকে প্রকাশ্যে একজন ব্যক্তিকে তুলে নেওয়া এবং চারদিন পর অন্য উপজেলায় শিকল বাধা অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে । এটি কি পরিকল্পিত অপহরণ? নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে?