মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, হাওরের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে। স্থানীয় মানুষের উপকারে আসে—এমন সব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এর জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং মা মাছ ও পোনা মাছ নিধন বন্ধ করতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোনার মদন উপজেলার উচিতপুর খেলার মাঠে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “হাওরে ইতোমধ্যে ১৬ টন মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। দয়া করে কেউ অল্প লাভের আশায় ভবিষ্যতের বড় সম্পদ নষ্ট করবেন না। তিন টাকার আশায় তিনশ টাকার মাছ ধ্বংস করবেন না। মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনাদের উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। রাস্তা-ঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নেও সরকার কাজ করবে। এই এলাকার নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর দীর্ঘ ১৭ বছর নানা নির্যাতন সহ্য করেছেন। তিনি এলাকার মানুষের উন্নয়নের স্বার্থেই আমাদের এখানে নিয়ে এসেছেন।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, “এই এলাকায় ব্যাপকভাবে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হবে। যদি চার মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা যায়, তাহলে হাওরের মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের অভাব-অনটন অনেকটাই দূর হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যতবার কারাগারে গিয়েছি, ততবার আমাদের প্রিয় বড় ভাই লুৎফুজ্জামান বাবর আমাদের পাশে ছিলেন। আজ তার এলাকায় এসেছি। আমার পূর্বপুরুষেরাও এই অঞ্চলের বাসিন্দা। এলাকার উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নে আমি কাজ করব।”
মদন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাদির হোসেন শামীমসহ মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা হাওরে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।