বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সভায় শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী ফল না আসায় উপাচার্যসহ উপস্থিত শিক্ষকদের মিলনায়তনে তালাবদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকাল থেকে চলা এই অবরোধে চার ঘণ্টা ধরে শিক্ষকরা আটকে আছেন।
শিক্ষার্থীদের কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পশুপালন, ভেটেরিনারি এবং কম্বাইন্ড—এই তিনটি ডিগ্রিই বহাল থাকবে। আগামী সেশন থেকে কম্বাইন্ড কোর্সে ১৫০ জন, ভেটেরিনারিতে ৫০ জন এবং পশুপালনে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে। ইতোমধ্যে যারা ভর্তি হয়েছেন, তারা চাইলে ভেটেরিনারি, পশুপালন বা কম্বাইন্ড—যেকোনো একটি ডিগ্রি নিতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী দুটি অনুষদ একীভূত করা সম্ভব নয়, তবে দুটি অনুষদ মিলিতভাবে কম্বাইন্ড ডিগ্রি প্রদান করবে এবং পালাক্রমে দুই অনুষদ থেকেই ডিন নির্বাচিত হবেন।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়াসহ সভায় উপস্থিত বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকরা ভেতরে আটকা পড়েন।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কারিকুলাম তৈরি করবে।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিনটি ডিগ্রি বহাল রাখার এই সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নন। তারা ‘এক পেশায় এক ডিগ্রি’র দাবিতে অনড়।
ভেটেরিনারি অনুষদের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। কিন্তু আজকের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে সব স্টেকহোল্ডার কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে।’ পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি ছিল কেবল একটি ডিগ্রি, আর সেটি হলো কম্বাইন্ড ডিগ্রি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিরা জানান, ৩৬ দিন ধরে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন। তার মতে, চাকরির ক্ষেত্রে কম্বাইন্ড ডিগ্রির প্রাধান্য রয়েছে এবং তিনটি ডিগ্রি রাখলে ভবিষ্যতে সমস্যা আরও বাড়বে।