হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ, মেলে না চিকিৎসাসেবা

রকিবুল হাসান, বকশীগঞ্জ (জামালপুর)

ছবি: আমার দেশ

জামালপুর শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে দেওয়ানগঞ্জের মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

উপজেলার আটটি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের রাজীবপুর এলাকার হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, পরিচ্ছন্নতা সংকট এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চরাঞ্চলের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই সরকারি হাসপাতাল এড়িয়ে বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা জেলা শহরের হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১১টি জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, অর্থোপেডিকস ও চক্ষু বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে ২০টি মেডিকেল অফিসার পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৯ জন। তাদের মধ্যেও কেউ কেউ প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা বা অন্যান্য কারণে বেশিরভাগ সময় ছুটিতে থাকেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নেই। কেউ কেউ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নিয়মিত এই সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে নারী ও শিশু রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ড, বারান্দা ও টয়লেট অপরিচ্ছন্ন। পাঁচটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন দুজন। ওয়ার্ডবয়ের তিনটি পদই শূন্য। আয়ার দুটি পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, দিনে মাত্র একবার চিকিৎসক রাউন্ড দেন। ওষুধ সরবরাহ থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ ও তদারকি সবসময় পাওয়া যায় না। হাসপাতালের খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

রোগী ইউসুফ আলী বলেন, নার্সরা আন্তরিকভাবে সেবা দেন। কিন্তু ডাক্তারদের দেখা খুব কম পাওয়া যায়। নার্সিং সুপারভাইজার মনোয়ারা জেসমিন বলেন, ৩১টি নার্সের পদের বিপরীতে বর্তমানে ২৫ জন কর্মরত রয়েছেন। সীমিত জনবল নিয়েও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

হাসপাতালের জনবলেও রয়েছে বড় ধরনের সংকট। তিনটি ওয়ার্ডবয়ের পদই শূন্য। দুটি আয়ার পদ শূন্য। পাঁচ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মধ্যে কর্মরত মাত্র দুজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টার দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অনেক চিকিৎসক সেখানে থাকতে আগ্রহী নন। ফলে বদলি হয়ে এলেও অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যে অন্যত্র চলে যান।এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আহসান হাবীবের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ময়মনসিংহ থেকে যাতায়াত করেন। এ বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রতিবেদক পরপর কয়েকদিন হাসপাতালে গিয়ে তাকে কর্মস্থলে পাননি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আহসান হাবীব বলেন, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি বা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়। সবাই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। আমার অনুপস্থিতির অভিযোগও ভিত্তিহীন।

তিনি আরো বলেন, প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে আমাকে মাসের অনেক দিন হাসপাতালের বাইরে থাকতে হয়। হাসপাতালে চিকিৎসক, ওয়ার্ডবয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অন্যান্য জনবলের সংকট রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

এএস

কাগজে শেষ প্রকল্প, সড়ক রইল আগের মতোই

ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

বকশীগঞ্জে কৃষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

আটপাড়ায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ

ফুলপুরে ১০ গ্রামের মানুষের ভরসা নড়বড়ে সাঁকো

বকশীগঞ্জ পৌরসভায় ৩০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

জামালপুরে গ্রিল কেটে বিচারকের বাসায় দুঃসাহসিক চুরি

পূর্বধলায় পিকআপভর্তি ভারতীয় কম্বল জব্দ

আদর্শনগর উপজেলা ঘোষণায় পাগলায় আনন্দ মিছিল