গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া গ্রামে সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মেয়ের জামাইকে হত্যা করে অটোরিকশাযোগে লাশ তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত হাফিজ উদ্দিন ভালুকা উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মোড়লের ছেলে।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাফিজ উদ্দিন শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া গ্রামের নাজমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে— রাব্বি (১৮), নিরব (১৪) ও হাবিবা (৬) নামে এক কন্যাশিশু। দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন স্ত্রী নাজমা আক্তারকে তালাক দেন। এরপর নাজমা সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন।
সোমবার সকালে হাফিজ উদ্দিন তার বন্ধু নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে সন্তানদের দেখতে সাবেক শ্বশুরবাড়ি কেওয়া গ্রামে যান। সেখানে যাওয়ার পর হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে সাবেক স্ত্রী নাজমা আক্তার, শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালকদের ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তারা হাফিজ উদ্দিনকে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে একটি অটোরিকশাযোগে তার লাশ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে থাকা বন্ধু নাজমুল জানান, তিনি বাড়ির বাইরে বসে ছিলেন। পরে হাফিজ উদ্দিনের আসতে দেরি হলে তিনি ভেতরে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় নাজমা আক্তার, তার বাবা ও মা তাকে মারধরও করেন এবং দ্রুত হাফিজ উদ্দিনকে সেখান থেকে নিয়ে যেতে বলেন। পরে তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে হাফিজ উদ্দিনকে তার বাড়ি মাহমুদপুর গ্রামে নিয়ে আসেন।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শ্রীপুর থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে।