হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

উন্নয়ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতেই অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে

ময়মনসিংহে তারেক রহমান

জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করতে দিয়েছে বলেই একটি গোষ্ঠী এখন অস্থির হয়ে উঠেছে এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শনিবার দুপুর আড়াইটায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঐতিহাসিক ধরার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একথা বলেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, তখন বিএনপির আইনজীবী ও চিকিৎসকরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু আজ যারা আন্দোলন ও অবরোধ করছে, তখন তাদের মাঠে দেখা যায়নি। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, “যারা দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে তারা কৃষকের কথা বলে না, খাল খননের কথা বলে না, গ্রামের শিশুর শিক্ষা কিংবা কৃষক কার্ডের কথা বলে না। তারা শুধু অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়।”

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধরার খাল শুধু একটি খাল নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন খালটি ভরাট ও অকার্যকর হয়ে থাকায় কৃষকরা সেচ সংকট, জলাবদ্ধতা এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রায় ৪৫ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে এই খাল খনন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। উপস্থিত প্রবীণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাদের বয়স ষাটের বেশি, তাদের অনেকেরই সেই স্মৃতি এখনও মনে থাকার কথা। তিনি বলেন, পুনঃখনন সম্পন্ন হলে অন্তত ৪ হাজার ৩০০ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরো ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার খাল রয়েছে, যেগুলো পুনঃখনন প্রয়োজন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করেছেন। আমাদের লক্ষ্যই ছিল মানুষের উপকার করা। খাল খনন করলে কৃষক উপকৃত হবে, গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।”

তারেক রহমান তার বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে পরিবারভিত্তিক “ফ্যামিলি কার্ড” কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সরাসরি মায়েদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে দেশের কৃষকদের জন্য “কৃষক কার্ড” চালুর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তিনি জানান, দেশের প্রায় দুই কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা সরাসরি সরকারি সহায়তা পেতে পারেন।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার শুধু কৃষি নয়, শিক্ষাখাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে। গ্রামীণ অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য নতুন স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান। তার ভাষায়, গ্রামের ছোট ছোট শিশুরা যেন সুন্দর পোশাক পরে স্কুলে যেতে পারে, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মসজিদের ইমাম-খতিব, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্যও সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ধর্মীয় ব্যক্তিরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

দেশের তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অসংখ্য শিক্ষিত তরুণ-তরুণী থাকলেও অনেকের কর্মসংস্থান নেই। এজন্য সরকার কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন নতুন টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে বলেও তিনি জানান।

বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনাকে একটি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “যেমন একটি সংসারে নানা সমস্যা থাকে, তেমনি একটি দেশেও নানা সমস্যা থাকে। একদিনে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।” তিনি বলেন, ২০ কোটি মানুষের এই বিশাল রাষ্ট্রে ধাপে ধাপে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সরকার দেশ পরিচালনা করতে চায়।

সম্প্রতি রাজধানীতে সংঘটিত একটি শিশুহত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের মাধ্যমে বিচার করতে হবে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “রাস্তা অবরোধ, যানবাহন বন্ধ, আগুন ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করতে চাইছে। তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত করছে।”

তিনি আরও বলেন, অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। খাল পুনঃখনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-খতিবদের সম্মানী, এমনকি শিশুদের স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গ্রামের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। যারা মানুষের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন দেশের মানুষ উন্নয়ন ও ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে হবে। নতুন ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে। দেশ গড়তে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

খাল পুনঃখনন উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ত্রিশাল আসনের এমপি ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, কৃষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে অন্ধকারে ৬০ গ্রামের মানুষ

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শ্রীপুরে নেতাকর্মীদের অবস্থান

কুলিয়ারচরে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর সাময়িক বরখাস্ত ১, বদলি ১১

ভিজিএফ কার্ড বিতরণে অনিয়ম, বিএনপি নেতাদের হাতে অর্ধেক কার্ড

গফরগাঁওয়ে যুবকের মস্তকবিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ত্রিশালে সাজসাজ রব, নিরাপত্তা জোরদার

মালয়েশিয়ায় ৯ দিন ধরে নিখোঁজ বাংলাদেশি যুবক

ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

শেরপুরে নৈশপ্রহরীকে বেঁধে রেখে ট্রান্সফরমার চুরি