ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলীয় ২৭ জন এবং স্বতন্ত্র ৫ জনসহ ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরসহ ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনি এলাকার মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়।
এবার, সংসদ সদস্য নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুকূলে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়েছে। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৮ শতাংশ ভোট না পেলে ওই ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফলাফল ঘোষণার পর জানা যায়, আসনভিত্তিক জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাওয়া প্রার্থীরা নওগাঁ-১ (পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর) আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। অনুষ্ঠিত ভোটে এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি।
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮৮টি ভোট। আর জাতীয় পার্টির আকবর আলী (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ২৪৩ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির আব্দুল হক শাহ্ (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮ ভোট।
এই আসনে ১৬৬টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫১১টি। কাজেই এই তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।
নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনে বিভিন্ন দলের ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এদের মধ্যে একজন প্রার্থী জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এই আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮০ ভোট। এই আসনে ১২৪টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬ জন।
নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) এই আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
অনুষ্ঠিত ভোটে এদের মধ্যে ছয়জন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এই আসনে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আকতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১২৯ ভোট।
আর বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) আব্দুল্লাহ আল-মামুন সৈকত (টেলিভিশন) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১৯৫ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কালিপদ সরকার (মই) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৩৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী নাসির বিন আছগর (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৩ ভোট, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৮২৩ ভোট।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে চারজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এখানে বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির ডা. এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩২৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলদেশ পার্টির সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা. আরফানা বেগম (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ৭১২ ভোট।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে বিভিন্ন দলের ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। অনুষ্ঠিত প্রাপ্ত ভোটে জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো. আব্দুর রহমান (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১০১ ভোট এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ৭৪১ ভোট।
এই আসনে ১১৮টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭টি। এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। অনুষ্ঠিত প্রাপ্ত ভোটে আসনটিতে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩৮ ভোট।
অপরদিকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫৫ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৩ ভোট। এই আসনে ১১৫টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন।
এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৩২ হাজার ৯২৩টি। নিয়ম অনুযায়ী ৮শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তারা সকলেই জামানত হারাচ্ছেন।
জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল মোত্তালিব বলেন, এবার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়েছে। অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কেউ যদি তার নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের ৮শতাংশ ভোট না পান, তাহলে তাঁর জমাকৃত জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।