সিরাজগঞ্জের উত্তর তাড়াশের হাজার হাজার বিঘা জমির ধান রক্ষা করতে উজানের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় রোববার তাড়াশ-কাঁটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়কে নির্মাণাধীন উত্তর ওয়াপদাবাঁধ সেতু সংলগ্ন বিকল্প সড়ক কেটে দিলেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা।
তাড়াশে এলজিইডি নির্মাণাধীন সেতুর বিকল্প সড়ক নির্মাণ করায় উজানের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ডুবে যায় তিন ইউনিয়নের ফসলি জমি। এ ঘটনায় উপজেলার তাড়াশ-কাঁটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়কের তাড়াশ উত্তরবাঁধ সেতুসংলগ্ন বিকল্প সড়ক কেটে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে তাড়াশ অঞ্চলে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে উজানে থাকা উপজেলার দেশিগ্রাম, তালম, মাধাইনগর ইউনিয়নের অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি গ্রামের ফসলি মাঠে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই তিন ইউনিয়নে রোপা আমন ধান লাগানোর জন্য প্রস্তুত করা প্রায় এক হাজার ২০০ হেক্টর জমি ও সে জমিতে থাকা রোপা আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে।
ভাদাস গ্রামের কৃষক মো. আলম, উত্তর মথুরাপুর গ্রামের কৃষক আছাদুজ্জামানসহ অনেকেই জানান, তাড়াশ-কাঁটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়কের উত্তর ওয়াপদাবাঁধ এলাকায় সেতু নির্মাণের কারণে পাশের সড়কে মাত্র দুটি রিং স্ল্যাব বসিয়ে পানিপ্রবাহের ব্যবস্থা করা হয়। যা দিয়ে অত্র এলাকার পানি প্রবাহ সম্ভব না। এ কারণে উজানে বৃষ্টির পানি ফুলেফেঁপে উঠতে থাকে। এতে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধতা থেকে রোপা আমনের বীজতলা ও জমি রক্ষায় শতাধিক বিক্ষুব্ধ কৃষক কোদাল, শাবল নিয়ে পানিপ্রবাহের একমাত্র স্থান তাড়াশ-কাঁটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়কের ভাদাস ওয়াপদাবাঁধ এলাকার সেতু সংলগ্ন সড়কের বাঁধ কেটে দেন।
সরেজমিন জানা যায়, তাড়াশ-কাটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়কের ওয়াপদাবাঁধ এলাকায় ব্রিজ নির্মাণের কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বাঁধের ওপর দিয়ে যান চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করলেও পানি যাওয়া-আসার সুযোগ রাখা হয়নি। এতে বাঁধের পূর্বদিকের অংশের ফসলি মাঠে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রিজটির কাজ বর্ষা মৌসুমের আগের শেষ করার জন্য বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ পেলেও এলজিইডি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেয়ায় আজ লাখ লাখ মানুষের অসুবিধা হলো।
এদিকে, সড়ক কেটে দেয়ায় পানিপ্রবাহের পথ উন্মুক্ত হলেও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মোছা. আকলিমা খাতুন, ময়ুরজান মাহি, হ্যাপিসহ অনেকেই জানান, ওই সড়কটি তাদের কলেজে আসা-যাওয়ার একমাত্র সড়ক। তা ছাড়াও ডিগ্রি, ইন্টার ও ভোকেশনাল পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে মহিলা কলেজে। কীভাবে এসব পরীক্ষার্থীরা রাস্তা পার হবে তা নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় অভিভাবকরা। হঠাৎ বিক্ষুব্ধ কৃষকরা তাদের প্রয়োজনে রাস্তাটি কেটে দিয়েছেন। এতে পথচারী, শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।