আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গা উৎসব। বগুড়ার আদমদীঘিতে এ উৎসবকে সামনে রেখে মণ্ডবে মণ্ডবে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা।
উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডব ঘুরে দেখা গেছে, মৃৎশিল্পী কারিগররা বাঁশ, খড়, মাটি, ধানের গুড়াসহ নানা রকম উপকরণ দিয়ে স্বর্গলোকের দেবী দুর্গার প্রতিমাসহ শিব, গনেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী, সরস্বতী, সিংহ, মহিষ, ময়ুর, ইদুঁর, পেঁচা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
কারিগররা জানায়, পূজোর আর বেশি সময় নেই। তাই তারা কাঁদা মাটি যুক্ত মাটি দিয়ে নানা ধরনের কারুকার্যে স্বর্গলোকের দেবী দর্গাসহ তার সঙ্গীদের প্রতিমা তৈরির কাজ আগে ভাগেই শুরু করেছে। কেন না মাটির তৈরি প্রতিমাগুলো রৌদ্রে শুকিয়ে নিতে হয়। প্রায় মণ্ডবগুলোতে ইতি মধ্যে মাটির কাজ শেষের দিকে।
উপজেলার সান্তাহার পুরাতন বাজার সার্বজনীন দুর্গা মণ্ডবে গিয়ে প্রতিমা তৈরির কারিগর রনজিৎ সরকারের সাথে এ প্রতিনিধির কথা হয়। রনজিৎ বলেন, তার বাড়ি বগুড়ার কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর ভেকরা গ্রামে। ছোট বেলা থেকেই প্রতিমা তৈরির প্রতি তার মনোযোগ হয়। শৈল্পিক কারুকার্য শেখার জন্য সে ভারতে নদীয়াতে এক মৃৎশিল্পীর কাছে কিছু দিন কাজ শিকে দেশে ফিরে প্রতিমা তৈরির কাজে নেমে পড়ে। প্রতি বছর সে প্রতিমা তৈরি করে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অনেক স্বাবলম্বী হয়েছে।
আদমদীঘি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসিত দেবনাথ বাপ্পা সাধারণ সম্পাদক মিহির কুমার সরকার জানান, এবার আদমদীঘি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় মোট ৬৫ টি মণ্ডবে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার প্রতিটা মণ্ডব কমিটির নেতৃবৃন্দকে রাতের বেলা প্রতিমাগুলো দেখভালের জন্য পাহারার দেয়ার পাশাপাশি প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনর্চাজ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পূজা মণ্ডবগুলোর সুরক্ষা দিতে ইউনিয়ন বিট পুলিশের দ্বায়িত্বে থাকা থানার পুলিশ অফিসারগণ সার্বক্ষনিক প্রতিটি মণ্ডব পরিদর্শনের পাশাপাশি পূজা মণ্ডব কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে নিরাপত্তার কোন ঘাটতি নেই।