বগুড়ার নন্দীগ্রামে মাদক প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে থানার ওসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ঝটিকা মিছিল করেছে যুবদল। অভিযোগ উঠেছে, ওসির অপসারণ দাবি করায় ক্ষুব্ধ আচরণ করছে পুলিশ। মাদকবিরোধী মিছিল করা নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। মাদক কারবারিকে থানায় ডেকে বাদী সাজিয়ে মামলা করার চেষ্টাসহ বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন পুলিশের কর্মকর্তা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, গ্রামীণ জনপদে নিরাপদে বসে জুয়ার আসর। রাতে চলে জুয়া, দিনে লোক দেখানো অভিযান চালায় পুলিশ। পৌর শহরসহ উপজেলায় ফেনসিডিল, এস্কাফ, ফেয়ারডিল, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল, গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদক কারবারির আনাগোনা বেড়েছে। সম্প্রতি মাসব্যাপী উপজেলার সিধইল গ্রামে জুয়ার আসর চলে বলেও জনশ্রুতিতে অভিযোগ রয়েছে। এই আগ্রাসন থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় সোচ্চার হয়েছে সরকার দলের নেতাকর্মীরা।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পৌর শহরে মাদকবিরোধী ঝটিকা মিছিল বের করে যুবদল। সমর্থন জানিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীরাও বিক্ষোভে অংশ নেয়। নেতৃত্ব দেন নন্দীগ্রাম উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ রুবেল। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি মাদক প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। ঝটিকা মিছিলে অংশ নেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সিয়ামুল হক রাব্বি, যুবদল নেতা আব্দুল মান্নান, মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল, পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিজান আহমেদ, শিবলু রহমান, জাকারিয়া হোসেন, জনি আহমেদ প্রমুখ।
যুবদল নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, মাদকবিরোধী মিছিল করায় নেতাকর্মীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন থানার ওসি। উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ রুবেলের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন। এছাড়া স্থানীয়রা জানাই ওইদিন রাতে নেতার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। পুলিশের এমন আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, তাদের সঙ্গে আমার বিরোধ নেই। তারা হঠাৎই মিছিল করেছে। এক ব্যক্তিকে মারধর করায় শুক্রবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) মো. আতোয়ার রহমান জানান, মাদকবিরোধী মিছিল হয়েছে শুনেছি। তবে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাইনি। খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এডি/জেডএম