হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

রাউতারা বালুর বাঁধে সরকারের গচ্ছা কোটি কোটি টাকা

আসলাম আলী, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)

কৃষকদের ধান রক্ষার জন্য প্রায় ৩৮ বছর ধরে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে তোলা বালু দিয়ে তৈরি করা হয় অস্থায়ী রাউতারা রিং বাঁধ। তিনটি জেলার হাজার হাজার হেক্টর ধান রক্ষায় প্রতিবছর পানি উন্নয়ন বোর্ড এই বাঁধে ব্যয় করে কোটি কোটি টাকা। অথচ একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ না নিয়ে প্রায় চার দশক ধরে অস্থায়ী বাঁধের নামে প্রতিবছর সরকারের টাকা জলে যাচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, এই রিং বাঁধে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। বাঁধে যে পরিমাণ মাটি ও বালু ফেলার কথা, তা বাঁধে ফেলা হয় না কোনো বছরই। তাছাড়া প্রতিবছর বাঁধটির কিছু অংশ ভেঙে দেওয়ার পর বাদ-বাকি অংশটুকু থেকে শুরু হয় আবার বাঁধ নির্মাণ। এতে প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় বাঁধ নির্মাণে চলে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত চার বছরে উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা স্লুইস গেটের পশ্চিম পাশে ১ হাজার ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ অস্থায়ী রিং বাঁধ নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এ বছরে এ বাঁধ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। স্থানীয় কৃষকদের ধান রক্ষার নামে বালু দিয়ে অস্থায়ী এ বাঁধ নির্মাণ ও ভাঙার কাজ চলছে চার দশক ধরে। যদিও প্রতিবছরই বাঁধটি নির্মাণের এক থেকে দেড় মাসের মাথায় মাছ আহরণ ও নৌকা চালানোর সুবিধার জন্য কেটে দেয় স্থানীয় মৎস্য শিকারি ও নৌযান শ্রমিকরা।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর তথা চলনবিলের হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমির ধান রক্ষার্থে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যা ১৯৮০ সালে শেষ হয়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধটি ১৯৮৮ সালে দেশব্যাপী ইতিহাসের ভয়াবহতম বন্যায় বাঘাবাড়ি-নিমাইচড়া অংশের রাউতারা স্লুইস গেটের পশ্চিম পাশে ভেঙে যায়। সেই থেকে প্রতিবছর ঐ অঞ্চলের কৃষি জমির ধান রক্ষায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এই স্থানে বালু দিয়ে রিং বাঁধ তৈরি করে।

বাঁধটির নির্মাণকাজ মার্চ মাসে শুরু হয় এবং বাঁধের স্থায়িত্ব ২৮ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। নির্মাণ শেষে বাঁধ ভেঙে না গেলেও প্রতিবছর জুন মাস শেষে মাছ আহরণ ও নৌকা চালানোর সুবিধার জন্য কেটে দেন মৎস্য শিকারি ও নৌযান শ্রমিকরা। এতে চোখের সামনে সরকারের কোটি টাকা জলে ভেসে যায়। আর স্থানীয়রা বাঁধের পাইলিংয়ের বাঁশ, খুঁটি ও বালুর বস্তা লুট করে বিক্রি করে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন কঠোর নজরদারি করলে বাঁধটি সহজেই রক্ষা করা যায়।

এ ব্যাপারে পোতাজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে পাম্প হাউসসহ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হলে দুই ফসলি জমিতে বহুমাত্রিক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এখানে একটি স্থায়ী বাঁধসহ একটা পাম্প হাউজ নির্মাণের আশুদৃষ্টি কামনা করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এখানে একটি স্থায়ী বাঁধের পাশাপাশি আধুনিক পাম্প হাউস নির্মাণ করা হলে শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণই নয়, দুই ফসলি জমিতে বহুমুখী ফসল চাষের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে এলাকার কৃষি অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী এবং উক্ত রিং বাঁধের তদারকি কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, এবার প্রাক্কলনে বালু দিয়েই বাঁধ নির্মাণ সম্পূর্ণ করার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। সেই মোতাবেক টপ চার মিটার রেখে কাজ করা হচ্ছে।

সাপাহারে আম উৎসব চললেও চাষিদের মুখে হতাশা

রাজশাহী ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সা.সম্পাদক আমার দেশের আসাদ

ভাঙ্গুড়ায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মশালা

ধুনটে যুবদল নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল

সাপাহারে আমের দাম কম, চাষিদের মুখে হাসি নেই

মাদকবিরোধী দিবসে রাজশাহীতে জামায়াতের র‍্যালি ও সমাবেশ

পর্নোগ্রাফি মামলায় সিরাজগঞ্জে সাংবাদিক গ্রেপ্তার

লালপুরে বিএনপিকর্মী ও ভাটা ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

ধামইরহাটে মায়ের পায়ের রগ কেটে দিল ছেলে

যমুনায় গোসল করতে নেমে দুই মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু