হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

দুই বছর ধরে বন্ধ, মরিচায় নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রাংশ, মাসে খরচ ৭০ লাখ টাকা

সিরাজগঞ্জে ‘জাতীয় জুট মিল’

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ

দুই বছর ধরে বন্ধ উত্তরবঙ্গের বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জের ‘জাতীয় জুট মিল’। মিলটি বন্ধ থাকায় কর্মহীন রয়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জাতীয় জুট মিলের যন্ত্রাংশে মরিচা ধরেছে। মরিচা ধরা এসব যন্ত্রপাতি ও সম্পদ দেখভালে সরকারি কোষাগার থেকে লাখ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। মিলের ১৮৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়মিত বেতন পরিশোধ, বিদ্যুৎ বিলসহ প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।

মিলটি থেকে কোনো আয় না হলেও বছরের পর বছর সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, মিলটি চালু করা হলে সরকার লাভবান হবে, পাশাপাশি শ্রমিকেরা বাঁচবেন; তাহলে সরকারি অর্থ অপচয় হবে না। তবে বন্ধ থাকা মিলটি চালু করতে বিজেএমসি থেকে লিজের জন্য চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রায়পুর এলাকায় ৭৫ একর জমির ওপর ১৯৬০ সালে নির্মাণ করা হয় কওমি জুট মিলটি। এই মিলকে ঘিরে কর্মসংস্থান হয় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের। ফলে পরিবর্তন হয় এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার। কিন্তু দুর্নীতি আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানা কারণে লোকসানের মুখে ২০০৭ সালে উৎপাদন বন্ধ হয় কারখানাটি।

মিলটি চালুর দাবিতে আন্দোলনে নামেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। পরে ২০১১ সালে কওমি জুট মিল নতুন নামে (জাতীয় জুট মিল) আবার চালু করা হয়। পরে ২০২০ সালের ১ জুন আবারও মিলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২২ সালে কুষ্টিয়ার রশিদ গ্রুপ মিলটি ভাড়া (লিজ) নিয়ে উৎপাদন শুরু করলেও মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০২৪ সালে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস বকেয়া রেখেই মিলটি বন্ধ করে চলে যায়। বর্তমানে মিলটি বন্ধ থাকলেও ১৮৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়মিত বেতন পরিশোধ ও বিদ্যুৎ বিলসহ প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যভরা এই রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি লোকসান ও অব্যবস্থাপনায় দফায় দফায় বন্ধ হওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন চলা কষ্টকর হয়ে পড়েছে তাদের। তাই সব জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত মিলটি আবার চালু করার দাবি জানিয়েছেন কর্মহীন শ্রমিকেরা।

মিলের সাবেক শ্রমিক রতন আলী বলেন, ‘মিলটি বন্ধ হওয়ার পর সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে ঘটকালি করছি। এই পেশায় তেমন ইনকাম না থাকায় অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। কিন্তু মিলটি বন্ধ থাকার পরও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিকই বেতন পাচ্ছেন।

শ্রমিকদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে সরকার যদি মিলটি চালু করত, তাহলে আমরা রক্ষা পেতাম।’ আরেক শ্রমিক বেলাল হোসেন বলেন, ‘এই জুট মিলই ছিল আমার পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস। মিলটি বন্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন কাজ করে বউ-ছেলেমেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন যাপন করছি। আমরা মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। নতুন সরকার (বিএনপি) মিলটি চালু করবে, এ আশায় বুক বেঁধে আছি। মিলটি চালু হলে আমরা যারা পুরোনো শ্রমিক আছি, তাদেরই যেন কাজে নেওয়া হয়—সরকারের কাছে সেই দাবি জানাচ্ছি।’

সিরাজগঞ্জ স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্য ও শ্রমিক আন্দোলন নেতা নবকুমার কর্মকার বলেন, ‘মিলটি চালু করতে আমরা বহু আন্দোলন করেছি। দলীয়করণ ও লুটপাটের কারণেই মিলটি বারবার বন্ধের মুখে পড়েছে এবং হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়েছে। এখনো অনেক শ্রমিকের বেতন বকেয়া রয়েছে, তা পরিশোধ করতে হবে। কর্মচারী-কর্মকর্তারা বসে বসে বেতন নিচ্ছেন আর শ্রমিক না খেয়ে মরছেন। মিলটি আধুনিকায়ন করে সরকারি উদ্যোগে চালু করতে হবে।’

এ বিষয়ে জাতীয় জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেন জানান, সরকার বন্ধ মিল চালু করার কথা ইতোমধ্যে বলেছে। বন্ধ থাকা মিলটি চালু করতে বিজেএমসি থেকে লিজের জন্য চেষ্টা চলছে। কেউ লিজ নিলেই আবার মিলটি চালু হবে। মিলের ১৮৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে।  বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। আশা করছি, খুব দ্রুত মিলটি চালু করতে পারব।

পায়ে লিখে মাস্টার্স পাস নীলা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাকরিপ্রার্থী

সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্টের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ

বগুড়ায় রাইস মিল মালিককে নৃশংসভাবে হত্যা, ৩টি ট্রান্সফরমার লুট

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন এমপি বুলবুল

মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবার মৃত্যু, পলাতক অভিযুক্ত

হেরোইন রাখার দায়ে মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বিএনপিকে প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে চাই: শাহজাহান মিঞা

যুবলীগ নেতার মুক্তি দাবিতে থানা ঘেরাও করা ছাত্রদল নেতা সোহেলকে শোকজ

বগুড়া চেম্বার নির্বাচনে বাদল-হিরু পরিষদের নিরঙ্কুশ বিজয়

এক পরিবারের সবাই মাদক কারবারি, স্বামী-স্ত্রী ও দুই ছেলে গ্রেপ্তার