বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়ালেখা, বন্ধুত্ব, প্রেম-বিয়ের পর ৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় একই সঙ্গে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা।
সফল এই দম্পতি সাহাজ উদ্দিন বাদল (২৯) ও জেরিন আক্তার স্বর্ণা (২৮)। তারা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা পদে একসঙ্গে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার আগেই সাহাজ উদ্দিন সোনালী ব্যাংকে অফিসার (জেনারেল) ও জেরিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু এখনো যোগদান করেননি তারা।
সাহাজ উদ্দিন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের দৌলুতপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে। অন্যদিকে জেরিন আক্তারের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। তার বাবার নাম আব্দুল কাফি। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাহাজ উদ্দিনের স্ত্রী জেরিন জানান, এক ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট। বড় বোন রত্না খাতুন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে (২০১৬-১৭) সালে ভর্তি হয়েছিলেন সাহাজ উদ্দিন। অনার্স শেষ হয় ২০২২ সালে। সেখানেই জেরিনের সঙ্গে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে। তবে নিজেদের বিয়ের খবরটি উভয়ই গোপন রেখেছিলেন ৩ বছর।
আলাপচারিতায় সাহাজ উদ্দিন বলেন, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই জেরিনের সঙ্গে পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একসঙ্গে পড়াশোনা, আড্ডা, লাইব্রেরিতে দীর্ঘ সময় কাটানো এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে সম্পর্ক গভীর হয়। ৪৪তম বিসিএস-এ প্রথমবার আবেদন করেছিলেন তারা। পরিকল্পিত প্রস্তুতি শুরু হয় ৪৫তম বিসিএসকে ঘিরে।
প্রথম চেষ্টায় প্রিলিমারি পরীক্ষাতে ব্যর্থ হন তাঁরা। ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমারিতে জেরিন উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তাতে দমে না গিয়ে আরো পরিকল্পিত এবং কঠোর পরিশ্রমের পর ৪৭তম বিসিএসে দুজনই কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (সহকারী পরিচালক) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
প্রথমবার প্রিলিমারিতে টিকতে না পারা এবং গোপন বিয়ে নিয়ে নিজেদের জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন তারা। এ শঙ্কা থেকেই সাহাজ উদ্দিন সোনালী ব্যাংকে অফিসার (জেনারেল) এবং জেরিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করেছিলেন। দুজনই সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এ অর্জন তাদের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দেয়।
জেরিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই একে অপরের সহযোগী ছিলেন তারা। দুজন দুই হলে থাকলেও সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে।
জেরিন আরো বলেন, এ সফলতার পেছনে তার পরিবার এবং স্বামীর অবদান অপরিসীম। অনেকবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু কখনো ভেঙে পড়িনি।’
সাহাজ উদ্দিনের বাবা আব্দুর রউফ জানান, সংসারে অভাব নেই। ২ ভাই ও তাদের সন্তানদের নিয়ে যৌথ পরিবার। কোনো অশান্তি নেই। ছেলে ও বউমা বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ায় খুশি তিনি ও তার পরিবার।