হোম > সারা দেশ > রংপুর

চালকহীন অ্যাম্বুলেন্স, অচল ডিজিটাল এক্স-রে, ভোগান্তিতে রোগীরা

গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

উপজেলা প্রতিনিধি, গঙ্গাচড়া (রংপুর)

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়েছে। এতে করে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আঙিনায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নেই চালক। আবার ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকায় রোগীদের নির্ভর করতে হচ্ছে ধীরগতির অ্যানালগ মেশিনের ওপর। ফলে জরুরি চিকিৎসাসেবায় তৈরি হয়েছে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে হাসপাতালের নিয়মিত অ্যাম্বুলেন্স চালক বদলি হন। এরপর এক বছর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো চালক নিয়োগ হয়নি। এতে জরুরি অসুস্থতা, প্রসূতি জটিলতা কিংবা দুর্ঘটনার শিকার রোগীদের দ্রুত রেফার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে পরিবারগুলোকে এখন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে লোকজনকে ।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন মাহতাব উদ্দিন বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু চালক না থাকায় ব্যবহার করতে পারি না। বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে বেসরকারি গাড়ি নিতে হয়। অনেক সময় টাকা জোগাড় করতেই দেরি হয়ে যায়।

কোলকোন্দ ইউনিয়নের আরতী রানী নামের এক গর্ভবতী নারী স্বাভাবিক প্রসবের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন সিজারিয়ান প্রয়োজন হলে তার পরিবার বাধ্য হয়ে এক হাজার টাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রংপুরে পাঠান। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলে কিলোমিটার প্রতি ১০ টাকা হারে সর্বোচ্চ প্রায় ৩০০ টাকায় যাওয়া সম্ভব হতো । এছাড়া এক্স-রের অবস্থাও নাজুক। ২০২১ সালে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন নষ্ট হয়ে যায়। ২০২৩ সালে একটি অ্যানালগ মেশিন স্থাপন করা হলেও সেটিতে একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। গুরুতর ভাঙন বা জটিল আঘাতের ক্ষেত্রে রোগীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সাতটিই তিস্তা নদীবেষ্টিত। বিশেষ করে নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, মর্নেয়া, গজঘণ্টা ও লক্ষ্মীটারীর মানুষ দূরবর্তী চরাঞ্চলে বসবাস করেন। দুর্ঘটনা বা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাদের নদী পেরিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে হয়। কিন্তু সেখানে এক্স-রেসেবা না থাকায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রংপুরে যেতে হয়। চরাঞ্চল থেকে আসা এক বৃদ্ধ রোগী সালাম মিয়া বলেন, নদী পার হয়ে এখানে আসি। আবার যদি রংপুর যেতে হয়, তাহলে আমাদের মতো গরিব মানুষের চিকিৎসা করানো দায় হয়ে যায়।

দুর্ঘটনায় আহত এক রোগীর স্বজন এফজাল হোসেন বলেন, এক্স-রে রিপোর্ট পেতে অনেক সময় লাগে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগেই রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত রংপুরে নিয়ে যেতে হয়।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মেহেরুন্নেছা রুমা বলেন, অ্যানালগ মেশিনে রিপোর্ট পেতে দেরি হয়। ডিজিটাল মেশিন থাকলে দুই থেকে চার মিনিটেই রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব। সময়ের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে দ্রুত জেলা শহরে পাঠাতে হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু আলেমুল বাসার বলেন, চালক না থাকায় এবং ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন অচল থাকায় রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিষয়টি একাধিকবার জেলা সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েছি। চালক নিয়োগ ও ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, পাইলট প্রকল্প ৮ উপজেলায়

শাজাহানপুরে বাসের ধাক্কায় গৃহবধূ নিহতের জের

র‌্যাবের অভিযানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে জনতার হাতে দুই ডাকাত নিহত

জামিনে মুক্ত হলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক এমপি

গণভোট মানে না বিএনপি, দলের নেতার মন্তব্য ভাইরাল

র‌্যাবের অভিযানে হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

নীলফামারীতে এখনো সরেনি পোস্টার-ব্যানার, আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন

তাড়াশে এক রাতে চার ট্রান্সফরমার চুরি

পবিত্র রমজানকে স্বাগত জানিয়ে রংপুরে ছাত্র শিবিরের র‌্যালী