হোম > সারা দেশ > রংপুর

১০ বার ভাঙনের কবলে সাঘাটার পাতিলবাড়ী স.প্রা. বিদ্যালয়

উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

মিজানুর রহমান রাঙ্গা, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

পাতিলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: আমার দেশ

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল পাতিলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যমুনার করালগ্রাসে ২০ বছরে ১১ বার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। এবারও ভাঙনের মুখে পড়ে বিদ্যালয়টির স্থাপনা অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বারবার বিদ্যালয়ের স্থান পরিবর্তন ও অবকাঠামো ভাঙা-গড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকেরা।

চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পাতিলবাড়ী গ্রামের প্রত্যন্ত চরের পাতিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো। এ বিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করে বহু শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে উচ্চ আসনে রয়েছেন।

১৯৮৮ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে। এরপর ১৯৯১ সাল থেকে প্রায় ১০ বার ভাঙনের কবলে পড়ে স্থানান্তরিত করতে হয়েছে বিদ্যালয়টি। এবারও গত ২২ জুলাই ভাঙনের মুখে পড়ায় স্থানান্তর করে ওই গ্রামের অন্য মৌজায় নেওয়া হয়েছে অবকাঠামো। বিদ্যালয়ের টিনের ঘর ও আসবাব রাখা হয়েছে একটি স্থানে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও বিদ্যালয়টিতে ছাত্র-ছাত্রী ছিল প্রায় ১০০ জনের ওপরে। একের পর এক স্থানান্তরের কারণে এখন তা দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে।

দু-এক বছর পরপরই ভাঙনের মুখে পড়ায় সরকারিভাবে ভালো অবকাঠামোও নির্মাণ করা হয়নি বিদ্যালয়টির জন্য। যে কারণে টিনের চালা, বাঁশ ও কাঠ দ্বারা কোনো মতে তৈরি করা ভঙ্গুর স্থাপনায় ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। এক অভিভাবক স্থানীয় বাসিন্দা নরুন্নবী বলেন, অনেক কষ্ট করে বাচ্চারা এখানে ক্লাস করে।

এমনিতেই নদী এলাকা হওয়ায় পানি-বালু মারিয়া ক্লাসে যেতে হয়, তার ওপর আবার বিদ্যালয়েরও ভগ্নদশা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে এখানে কষ্ট পোহাতে হয় বলে জানালেন আরেক অভিভাবক বাবু মিয়া।

চর এলাকার বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এই বিদ্যালয় কয়েক বছর আগেই অন্য স্থান থেকে সরিয়ে এখানে আনা হয়েছে। এবার আবারও সরাতে হলো। এমনিতেই বন্যা ও অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে চরের শিশুরা পড়ালেখায় পিছিয়ে, আবার কিছুদিন পর পর নদীভাঙনের কবলে পড়ে। এতে করে সন্তানদের প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করানো কঠিন হয়ে পড়ে।

একই এলাকার বাসিন্দা ওমর আলী বলেন, স্কুলের সঙ্গে মানুষজনকেও বিভিন্ন স্থানে চলে যেতে হয়। এতে সন্তানদের স্কুলে পড়ালেখা করানো কঠিন হয় এবং বিদ্যালয় থেকে ঝড়ে পড়ে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের স্থাপনা ভাঙা-গড়া নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। এবারও নদীভাঙনের কবলে পড়ায় স্থাপনা সরাতে বাধ্য হয়েছি। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগুলো পাঠদানের উপযোগী করতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।’

সাঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহেস সাফি জানান, ‘ভাঙনের কবলে পড়া ওই বিদ্যালয় পাঠদানের উপযোগী করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে।’

এমএইচ

শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কায় পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম

ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলনের দাবি

নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করছেন পাঁচবিবির গ্রামবাসী

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে স্মৃতি খাতুনের সাফল্য

বদরগঞ্জে মাদক ও জুয়া বন্ধের দাবিতে র‍্যালি ও পথসভা

সৈয়দপুরে মুক্ত আকাশে ডানা মেলল ২২ পাখি

কাউনিয়ার রতন হত্যা: দুই জেলা থেকে ৩ আসামি গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের ইজতেমায় গোর-এ-শহীদ ময়দানে জুমার নামাজ আদায়

পীরগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেলে আগুন

তিস্তার চরে ভুট্টার বীজ বুনে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নারীদের