বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির রংপুর ২ আসনের এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত থাকলে স্বনির্ভর দেশ গড়া সম্ভব। প্রশাসনের ভেতরেই যদি দুর্নীতি বাসা বাধে সেক্ষেত্রে অন্যদের দুর্নীতিমুক্ত করবেন কেমন করে। তাই অন্যের দুর্নীতি ধরতে গেলে সবার আগে প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দুর্নীতির কারণে দেশ এগিয়ে যেতে পারছে না। তাই এখন থেকে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী শপথ করতে হবে ভবিষ্যতে আর কখনও দুর্নীতি করব না কাউকে দুর্নীতি করতেও দেবো না।
বুধবার ৪ মার্চ দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এমপিদের পরিচয় পর্ব ও মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
মাদকের বিষয়ে এটিএম আজহার বলেন, সমাজে মাদক ব্যাপকভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। যেভাবে মাদকের ভয়াবহতা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে সেক্ষেত্রে উদীয়মান তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সি ছেলে-মেয়েসহ মধ্যবয়সী মানুষ মাদকে আসক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি থেকে শুরু করে পরিবারের কলহ সৃষ্টি করছে। মাদকের ছোবলে নিঃস্ব হয়ে চুরি ছিনতাই রাহাজানিতে জড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসনের উচিত যে কোন মূল্যে মাদককে নির্মূল করা। মাদক নির্মূল হলে সমাজে কলহসহ চুরি ছিনতাই এবং রাহাজানি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো হ্রাস পাবে। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।
বেকারত্ব দূরীকরণের বিষয়ে এটিএম আজহার বলেন, রংপুর অঞ্চলে কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। কারণ এই এলাকায় বড় বড় শিল্প কলকারখানা গড়ে ওঠেনি। এ কারণে সমাজে বেকারত্ব বাড়ছে। আমরা যারা এই রংপুরের ছয়টি আসনের এমপি আজকে উপস্থিত রয়েছি। আমাদের কাজ হচ্ছে কিভাবে এই অঞ্চলে শিল্প কলকারখানা গড়ে তোলা যায় সে বিষয়গুলো জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা তুলে ধরবেন। আমরা তা বাস্তবায়ন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব। শিল্প কারখানা গড়ে উঠলে এই এলাকার বেকারত্ব দূর করা সম্ভব।
তিনি বলেন, জনগণ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে তাদের সেবা করার জন্য। জনগণের সেবার জন্য আমাদের কি কি কাজ করতে হবে সেগুলো আমরা হাতে নিয়েছি। তবে জনগণ যেন সরকারি দপ্তরগুলোতে এসে সঠিক সেবা পায় সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সজাগ থাকতে হবে। কেউ যেন সেবা পেতে এসে হয়রানির শিকার না হয়। সে বিষয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারের দিকনির্দেশনা মেনে চলবেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ সহ হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে এটি আজহার বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা অন্যতম। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এখনো স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে মানুষ হয়রানির শিকার হয়ে নানান জায়গা ছোটাছুটি করেন। অনেক নার্সরা রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করে না। ডাক্তাররাও সময় মত রোগীদের না দেখে অবহেলা করেন। এমন নানান অভিযোগ সকলের জানা। হাসপাতাল গুলোতে রোগীদের হয়রানি না করে কিভাবে সেবার মান বাড়ানো যায় সে বিষয়ে ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সদস্য সচিব রংপুর ৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন বলেন, আমাদের এই এলাকা কৃষি বান্ধব। অথচ এই কৃষি বান্ধব এলাকায় এখনো সার সংকট লেগেই আছে। কৃষকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। কৃষকরা মাতার ঘাম পায়ে ফেলে যে ফসল ফলান বাজারে নিয়ে সেই পণ্যের দামটিও তারা ঠিকমতো পায় না। মধ্য সদ্য-ভোগীরা কৃষকদের ঠগিয়ে লাভবান হচ্ছেন। বেকারত্ব দূর করতে এবং কৃষকদের বাঁচাতে এই এলাকায় কৃষি বান্ধব শিল্প কলকারখানা গড়ে তুলতে হবে। কৃষিকে প্রাধান্য দিলে কৃষি বান্ধব কলকারখানা গড়ে তুললে এই এলাকার বেকারত্ব অনেকটা দূর করা সম্ভব হবে।
আখতার বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে অবৈধভাবে বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলন করে রাস্তাঘাট ঘরবাড়ি এবং ব্রিজ কালভার্টের ক্ষতি সাধন করছেন। প্রশাসনের একশ্রেণীর কর্মকর্তারা অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের সাথে যোগ সাজোশ করে এই ব্যবসা করার সুযোগ করে দিচ্ছেন। আমরা চাই আজকে এখন থেকে কেউ যেন অবৈধভাবে কোথাও থেকে আর বালু উত্তোলন করতে না পারে সেদিকে প্রশাসনকে কঠোর হস্তে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, এই এলাকায় সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজি আগের মতো যেন বেড়ে না ওঠে সেদিকে অবশ্যই প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমরা এই এলাকার যারা এমপি রয়েছি সকল বিষয়ে প্রশাসনকে আমরা সহযোগিতা করতে চাই। যাতে ভেদাভেদ ভুলে আমরা রংপুরকে একটি সুন্দর শান্তিপূর্ণ এবং জনবান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।
জেলা প্রশাসক এনামুল আহসানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন রংপুর ১ আসনের এমপি মাওলানা রায়হান সিরাজি, রংপুর ৩ আপনাদের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল, ৪ আসনের এমপি অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এবং রংপুর ৬ আসনের এমপি মাওলানা নুরুল আমিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হোসেনসহ জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।