হোম > সারা দেশ > সিলেট

তাহিরপুরে অরক্ষিত নজরখালি বাঁধ বন্যায় বোরো ধান ডুবে যাওয়ার শঙ্কা

বাবরুল হাসান বাবলু, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে টাঙ্গুয়ার হাওড়ের নজরখালি বাঁধ অরক্ষিত থাকায় ৯ হাজার হেক্টর জমির আবাদি বোরো ধান অকাল বন্যায় ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যায় বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দুই উপজেলার ৮২ গ্রামের প্রান্তিক কৃষক। বাঁধটি অরক্ষিত থাকলে আগাম বন্যায় যেকোনো সময় ডুবে যেতে পারে হাওড়ের ৯ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান। টাঙ্গুয়ার হাওড়ের অবস্থান সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলায়। টাঙ্গুয়ার হাওড়ের চারপাশে দুই উপজেলার ৮২টি গ্রাম রয়েছে। হাওড়ের চারপাশে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিগুলোতে শত শত বছর ধরে কৃষক বোরো ফসল আবাদ করে আসছেন। কিন্তু প্রতি বছরই টাঙ্গুয়ার হাওড়কে জলাভূমির দোহাই দিয়ে সরকারিভাবে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছরই স্থানীয় কৃষকরা উপজেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে একটি বরাদ্দ নিয়ে থাকেন।

বরাদ্দের টাকা দিয়ে উত্তর বংশীকুণ্ডা ইউনিয়ন, দক্ষিণ বংশীকুণ্ডা ইউনিয়ন ও শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে প্রতি বছর বাঁধটি সংস্কার করা হয়ে থাকে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বরাদ্দ না দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা বাঁধ নিয়ে অনেকটা শঙ্কায় রয়েছেন।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরে তাহিরপুর উপজেলায় হাওড়ের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ৮৮টি প্রকল্পে ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে নজরখালি বাঁধের নাম নেই। নাম না থাকায় চার ইউনিয়নের ৮২টি গ্রামের কৃষক হতাশায় পড়েন। স্থানীয়রা বলছেন, এ বাঁধের কারণে গনিয়াকুরি, এরালিয়াকুনা, নান্দিয়া, রাঙামাটিয়া, ফলিয়ার বিল, সামসাগর, রুপাভূই, লামারবিল, সোনাডুবি, করছরি, লুঙ্গাতুঙ্গা, শালদিগা, হানিয়া কলমা, মুক্তারখলা হাওরের সব ধান আগাম পানিতেই তলিয়ে যাবে।

মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের রংচি গ্রামের কৃষক বাতেন মিয়া বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওড়ের নজরখালি বাঁধ না দিলে আগাম বন্যায় হাওরে বোরো ফসল ডুবে যাবে। এতে হাওরের স্থানীয় অনেক কৃষক খাদ্য সংকটে পড়বে। তিনি আরো জানান, তিন বছর ধরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন টাঙ্গুয়ার হাওড়টিকে জলাভূমির দোহাই দিয়ে বাঁধের কাজ করাচ্ছেন না।

তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ইন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক উত্তম কুমার বর্মণ বলেন, প্রশাসন থেকে প্রতি বছর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বছর কেন দেওয়া হচ্ছে না, তা বুঝতে পারছি না।

তাহিরপুরের শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওড় জলাভূমি হলেও এ হাওড়ে যারা বসবাস করছেন, তারা শত শত বছর ধরে হাওড়ে বোরো ফসল রোপণ করে আসছেন। প্রতি বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে থোক বরাদ্দ দিয়ে এ বাঁধটি দেওয়া হয়। বাঁধটি না হলে, বৃষ্টির সময় নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওড়টি তলিয়ে যাবে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান মানিক বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওড়ের নজরখালি বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে কেউ জানায়নি। বিষয়টি কেউ জানালে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে উদ্যোগ নেবেন।

ওসিকে গালাগাল করা সেই বিএনপি নেতার জামিন

বোরো ফসল রক্ষায় আমাদের এখনই কাজ করতে হবে: কামরুল এমপি

বিএনপি নেতার ওপর হামলার ২৮ দিন পর মামলা

রক্তিম সাজে শিমুলবাগান, পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে বিষপানে স্বামীর মৃত্যু

মাদকসেবি যেই হোক ছাড় দেওয়া যাবে না: কামরুল এমপি

ওসিকে গালিগালাজ করা সেই বিএনপি নেতাকে আটকের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

রাতে আঁধারে মাটি বিক্রি, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ধর্মপাশায় অবৈধভাবে মাটি কাটায় এক ব্যক্তির ১৫ দিনের কারাদণ্ড

‘চাকরি করতে হলে আমারে কইয়া করন লাগব’ — সেই বিএনপিকে নেতা আটক