সিলেট বিভাগের পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে মালিকদের ডাকা ধর্মঘট গভীর রাতে প্রত্যাহার করা হলেও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে সব পাম্পে তেল, গ্যাস বিপনন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেটের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।
এরআগে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ মালিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বুধবার (০১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই পাম্প মালিকদের হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস এবং পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটি।
এদিকে রাত ৩টার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংগঠনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির মুখপাত্র ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান।
তিনি জানান, সিলেট বিভাগে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ধর্মঘট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে গভীর রাতে সিদ্ধান্ত হওয়ায় সব পাম্পে তাৎক্ষণিকভাবে বার্তা পৌঁছায়নি। সব পাম্পে বার্তা পৌঁছে কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।
এই সুযোগে ট্রাক-লরি ড্রাইভাররা মোবাইল কোর্টের জরিমানা এবং চাঁদাবাজি ও জ্বালানি তেল পর্যাপ্ত না দেওয়ার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ শুরু করে।সড়কের মাঝে ট্রাক ও লরি ফেলে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন আটকা পড়ে এবং সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
খবর পেয়ে ছুটে যান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী।
তিনি জানান, রাত ১০টার দিকে কিছু ট্রাক ও ট্যাংকলরি মহাসড়ক অবরোধ করলেও আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেড়/দুই ঘণ্টার মধ্যে সড়ক মুক্ত করি।মধ্যরাত ১২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এছাড়া চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।