সুনামগঞ্জের হাওরে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে বোরো ফসল। কাটা ধানের অর্ধেক পচে গেছে। ঋণ এখন বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকদের মাঝে। বোরো ধান ঘরে উঠবে, মহাজনের ঋণ শোধ হবে, ব্যাংকের কিস্তি মিটবে, সংসারে ফিরবে কিছুটা স্বস্তি। কিন্তু টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সেসব হিসাব এখন এলোমেলো।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচের জন্য অনেকেই এনজিও, ব্যাংক কিংবা স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই পানিতে তলিয়ে গেছে সেই ধান।
সদর উপজেলার দেখার হাওরের কৃষক আবদুল কাইয়ুম বলেন, এবার ১২ কিয়ার জমিতে ধান করছিলাম। সবকিছু মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। ধান উঠলে শোধ করতাম। এখন জমির ধানই নাই, কিস্তি দিব কেমনে বুঝতেছি না।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাংহাই হাওরের কৃষাণী আইবুন বেগম বলেন, সার, বীজ, শ্রমিক সব ধার কইরা করছি। এখন খলায় যে ধান আনছি, বৃষ্টির কারণে শুকাইতে না পাইরা অনেক ধান নষ্ট হইয়া গেছে। সংসার চালানোই কষ্ট হয়ে গেছে।
আরেক কৃষক নুর উদ্দিন বলেন, ধানের বদলে এখন মাথায় উঠছে ঋণের পাহাড়। মহাজন টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। এনজিওর কিস্তিও বন্ধ নাই। সামনে কী করমু বুঝতেছি না।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকারের দুজন মন্ত্রী এসে কৃষকদের ৩ মাস মেয়াদী সহায়তার উদ্বোধন করেছেন। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত সকল কৃষককে সহায়তায় আওতায় আনা হবে।
জেডএম