হোম > বাণিজ্য

অর্থনীতির সূচক ও লক্ষ্যমাত্রা পর্যালোচনায় নতুন সমন্বয় কাঠামো

স্টাফ রিপোর্টার

সরকারের নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা সঠিক পথে এগোচ্ছে কি না এবং অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়মিত পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনা বিভাগের সমন্বয় আরও কার্যকর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে আজ সচিবালয়ে অর্থ বিভাগে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সচিবরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন সূচকে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বাস্তব অর্জন কতটা এবং কোথায় ঘাটতি রয়েছে, এসব বিষয় নিয়মিতভাবে পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, বাজেট বাস্তবায়ন, প্রবৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়, খেলাপি ঋণ, রপ্তানি আয়সহ অর্থনীতির প্রধান প্রধান সূচকগুলোর হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন কর্মকর্তা জানান, অর্থনীতির সূচকগুলোর সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হালনাগাদ তথ্য এক জায়গায় সমন্বিতভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে হালনাগাদ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মূলত সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পরিমাপের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে অর্থনীতির সূচকগুলোর গতিপ্রকৃতি, সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য এবং বাস্তব অর্জনের মধ্যে ব্যবধান নিয়মিতভাবে চিহ্নিত করা হবে। তবে এ কাঠামোর নাম বা আনুষ্ঠানিক রূপ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সরকারের এ উদ্যোগ এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন অর্থনীতির কয়েকটি সূচকে উন্নতির পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে এখনো চাপ রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ হলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এখনো সম্ভাবনার তুলনায় কম এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহে দুর্বলতা রয়েছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের সাময়িক হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হতে পারে, যা আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশের চেয়ে বেশি। তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনো দুর্বল।

বৈঠক সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু অর্থনীতির সূচকগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য নয়। সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বাস্তব অগ্রগতি কতটা হয়েছে, সেটিও নিয়মিত হিসাব করা হবে।

এ ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রপ্তানি, আমদানি, রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধিসহ গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। কোনো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঘাটতি থাকলে তার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনা বিভাগের সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, এটি মূলত একটি সমন্বয় কমিটির মতো কাঠামো হবে। তবে এর আনুষ্ঠানিক নাম, কাঠামো ও কার্যপরিধি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতির সূচকগুলো কোথায় আছে, কী পরিবর্তন হচ্ছে এবং সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দেশ কতটা এগোচ্ছে, সেটি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা।

জে-ক্রিয়েশনের পৌনে ৪ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

বাংলাদেশের ঋণমান ইতিবাচক করেছে মুডিস রেটিং

পাঁচ দিন পর শেয়ারবাজারে বড় উত্থান

ব্রোকারেজ হাউজ-মার্চেন্ট ব্যাংকে মানিলন্ডারিং ইউনিট গঠনের নির্দেশ

১৪ মাস পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

সঞ্চয়পত্রে চালু হলো অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম

শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে

বিডায় নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণ নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে না

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণে সরকারের সহযোগিতা চায় বিজিবিএ

ঋণখেলাপি হওয়ায় আলী আফজালকে রিহ্যাব সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি