হোম > বাণিজ্য

এবার নিজ সংস্থাই বিএফআইইউ প্রধানের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলামের আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। তাঁর স্ত্রী সুমা ইসলামের ব্যাংক হিসাবের তথ্যও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আপত্তিকর ভিডিও কাণ্ডে শাহীনুল ইসলাম বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ছুটিতে থাকলেও তিনি বর্তমানে বিএফআইউর প্রধান হিসেবে কর্মরত। বিএফআইইউ সূত্র এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিএফআইইউ শাহীনুলের ব্যক্তিগত দুইটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পেয়েছে। একটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে অন্যটি ইস্টার্ন ব্যাংকে। ডাচ্–বাংলা ব্যাংকে শাহীনুল এবং তার স্ত্রীর দু’টি অ্যাকাউন্টের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাঁর অ্যাকাউন্টে জনৈক মিজানুর রহমান নামের একজন ব্যক্তি গত ১২ মে নগদে ২৩ লাখ টাকা জমা করেন। একই ব্যক্তি শাহীনুলের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে গত ৪ মে নগদ ১৫ লাখ টাকা এবং ৫ মে পাঁচ লাখ টাকা জমা দেন। এসব তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তী করণীয় জানতে উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে শুধু আপত্তিকর ভিডিওর বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে শাহীনুলের বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে এনা পরিবহনের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের পর ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ, বেসরকারি একটি ব্যাংকের অবলোপন করা ঋণে হস্তক্ষেপসহ নানা অভিযোগ এসেছে। এসব ক্ষেত্রে তাঁর ভাগ্নে পরিচয়ে একজনকে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের সাই পেলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে।

গত ১৮ আগস্ট শাহীনুল ইসলামের একাধিক আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শাহীনুল ইসলাম এটিকে ভুয়া দাবি করলেও ১৯ আগস্ট তিনি অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। পরদিন ২০ আগস্ট অফিসে আসলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন সরকার চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাইদ কুতুবকে আহ্বায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটির দুই সদস্য হলেন– বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের পরিচালক মো. মতিউর রহমান। আর যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম সদস্য সচিব। ৭ কর্মদিাবসের মধ্যে এই কমিটির রিপোর্ট দেওয়ার কথা।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৮ আগস্ট পদত্যাগে বাধ্য হন বিএফআইইউর তৎকালীন প্রধান মাসুদ বিশ্বাস। এরপর থেকেই পদটি শূন্য ছিল। শূন্য পদে নিয়োগের জন্য গত বছরের ৩ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ২৯টি আবেদন জমা পড়ে এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয় ১০ জনকে। প্রাথমিকভাবে তিনজনের নাম অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও সেখানে শাহীনুল ইসলামের নাম ছিল না। তিনজন হলেন- একেএম এহসান, রফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম।

সরকার পতনের পর থেকে একেএম এহসান ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়ে শেখ হাসিনার পরিবার ও শীর্ষ ১০টি গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্তসহ বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যে কারণে একটি গ্রুপ তাকে বিএফআইইউর প্রধান হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে তাদের পছন্দের তালিকায় ছিল রফিকুল ইসলাম, যিনি বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

যদিও তালিকার কাউকেই ওই সময় বিএফআইইউর প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়নি। হঠাৎ করে তালিকার বাইরে থেকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিএফআইইউর উপপ্রধান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শাহীনুল ইসলামকে সংস্থাটির প্রধান করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

দেশের সব ব্যাংকের জন্য জরুরি নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংকের খেলাপি কমলেও বেড়েছে জনতার

সবজির দাম কমলেও বেড়েছে মুরগি ও আমদানি মসলার দাম

ব্যাংক স্থাপনার ভাড়ার সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

পদত্যাগ করলেন গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহ

তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করবে এসএমই ফাউন্ডেশন ও সেভ দ্য চিলড্রেন

‘অ্যাসাইকুডা সিস্টেম’র তথ্য ব্যবহার বাধ্যতামূলক করল এনবিআর

পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান

অর্থনীতিতে গভীর সংকট তৈরির শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

বিউএফটির ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল