কর্মচারীদের সঙ্গে এতো বৈষম্য ও অনিয়ম হয় এটা অবিশ্বাস্য। গ্রামীণ ব্যাংকের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা যে দাবিগুলো করেছেন তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন আছে বলে জানিয়েছেন বলে অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গ্রামীণ ব্যাংক চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক বিশ্বব্যাপী পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া এটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। কিন্তু তার কর্মচারীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। এরকম একটি প্রতিষ্ঠানের এসব মানা যায় না। সরকারের উচিত তাদের দাবি মেনে নেয়া।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে কর্মচারীরা। দাবিগুলো হলো-
» অবিলম্বে দৈনিক ভিত্তিতে পিয়ন-কাম-গার্ড হিসেবে কর্মরত কর্মচারীদের নিয়োগের ৯ মাস পর থেকে সার্কুলার অনুযায়ী স্থায়ীকরণ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে যাদেরকে নিয়োগ করা হয়েছে তাদেরও চাকরি স্থায়ীকরণ করতে হবে।
» নিয়োগপত্র, ছবিসহ পরিচয়পত্র, সবেতনে সব প্রাপ্ত ছুটি, বোনাসসহ বাংলাদেশের শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্ত অধিকার দিতে হবে।
» গ্রামীণ ব্যাংকের চাকরিবিধি অনুযায়ী মাসিক বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, ঋণ সুবিধাসহ সামাজিক নিরাপত্তার যাবতীয় সুবিধা দিতে হবে।
» গ্রামীণ ব্যাংকের চাকরিবিধি অনুযায়ী মাসিক বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, ঋণ সুবিধাসহ সামাজিক নিরাপত্তার যাবতীয় সুবিধা দিতে হবে।
» আন্দোলন ও সংগঠন দমনে শাস্তিমূলক ছাঁটাই, বদলি বন্ধ করতে হবে।
» আন্দোলনের কারণে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল করতে হবে।
» আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।
» চাকরি স্থায়ীকরণ করে নিয়োগের শুরু থেকে সব প্রাপ্য পরিশোধ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফরিদপুর জোনে কর্মরত আহসান হাবিব বলেন, ব্যাংকের বৈষম্য দূর করতে ২০১২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে আমরা আন্দোলন করে আসছি। আমরা বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি পেশ, মিছিল-মিটিং, সমাবেশ, সুধী সমাবেশ, সাংবাদিক সম্মেলন করেছি। ২০১৫ সালে গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জায়াগায় আমাদের দাবি তুলে ধরি। আন্দোলনের সময় পুলিশি হামলার শিকারও হতে হয়েছে আমাদের। তবুও কোনো ফল পাইনি আমরা।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক দেশের একটি সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান। দেশের আর কোনো এনজিও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব নিয়মকানুন মেনে চলি। আমরা কাজ করলে মজুরি পাই, না করলে নেই। তারপরও প্রতিষ্ঠান আমাদেরকে নানাভাবে শোষণ করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- গ্রামীণ ব্যাংক চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলাউদ্দিন আল মামুন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রমুখ।