হোম > বাণিজ্য

একীভূত পাঁচ ব্যাংক যাচ্ছে আগের মালিকদের হাতে

ব্যাংক রেজুলেশন বিল পাস

রোহান রাজিব

ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ব্যাংকের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা সব অর্থ ফেরত দিলেও তাদের মালিকানায় ফেরার সুযোগ ছিল না। তবে সেই বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’। এই বিল পাস হওয়ায়, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মালিকানায় ফিরতে আগের শেয়ারহোল্ডারদের আর বাধা রইল না। একই সঙ্গে ফেরার পথ উন্মুক্ত হলো এস আলম ও নাসা গ্রুপের। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারের বেশির ভাগ ছিল এই দুই গ্রুপের হাতে।

২০২৫ সালে জারি করা অধ্যাদেশ সংশোধন করে জাতীয় সংসদে এই আইন পাস করা হয়। নতুন আইনের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো তফসিলি ব্যাংক রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় গেলে তার তালিকাভুক্তির আগের শেয়ারধারক কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় উপযুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পুনরায় ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্টদের একটি বিস্তারিত অঙ্গীকারনামা দিতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে—তারা সরকারের বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব আর্থিক সহায়তা ফেরত দেবে, নতুন মূলধন জোগান এবং বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণ করে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করবে এবং সব আমানতকারী ও পাওনাদারের দায় পরিশোধ করবে। এছাড়া কর, রাজস্ব, ক্ষতিপূরণসহ সব আর্থিক দায় শোধের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং ব্যাংকের সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারের পরিকল্পনাও থাকতে হবে।

অধ্যাদেশে আরো বলা হয়েছে, আবেদন চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে সরকারের অনুমোদন নেবে। অনুমোদনের পর আগের মালিকদের ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বুঝে নিতে হলে আগে সরকারের বিনিয়োগ করা অর্থের অন্তত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ জমা দিতে হবে। বাকি ৯২ দশমিক ৫০ শতাংশ দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।

নতুন বিধানে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনর্গঠিত ব্যাংকের কার্যক্রম দুই বছর তদারকি করবে। এ সময় শেষে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। কোনো ব্যর্থতা ধরা পড়লে অনুমতি বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে এবং সে অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, শর্তগুলো পরিপালনের পর মালিকানা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তা কিছুটা ঠিক ছিল। তবে তা না করে সামান্য অর্থ জমা দিয়ে শুধু অঙ্গীকারের ভিত্তিতে মালিকানা পাওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টি আত্মঘাতী। এর ফলে আমানতকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং দায়ী ব্যক্তিরা অতি সহজে পার পেয়ে যাবেন। এছাড়া কিছু অর্থ দিয়ে একবার কেউ মালিকানা পেলে তাকে বাদ দেওয়া সহজ হবে না।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এটি কার্যত ব্যাংক ধ্বংসের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করছে। যারা অতিরিক্ত ও অনিয়মিত ঋণের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে দুর্বল করেছে, তাদেরই আবার ফেরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—এটি জবাবদিহির জন্য ক্ষতিকর বার্তা।

তিনি আরো বলেন, এই অর্থ মালিকদের নিজস্ব উৎস থেকে আসবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তারা অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আবার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, যা সংস্কারের উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দেবে।

গত শুক্রবার সংসদে বিলটির ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে এবং ‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ (২০২৫)’ সংরক্ষণের অপরিহার্যতা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, আমানতকারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। এই বিলের মাধ্যমে কোটি মানুষের আমানতের সুরক্ষাকে ধ্বংস করা হচ্ছে। অতীতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ব্যাংক বাঁচানো হয়েছে, যা ছিল সাধারণ করদাতার টাকা। এই অধ্যাদেশ বা বিলটি বাতিল হলে লুণ্ঠনকারীরা আইনি ফাঁক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি আরো বলেন, আগে নিয়ম ছিল ব্যাংক ডুবলে শেয়ারহোল্ডাররা আগে ক্ষতি বহন করবেন, আমানতকারীরা থাকবেন সুরক্ষিত। কিন্তু নতুন আইনি কাঠামোয় সেই চেইন অব কমান্ড ব্যাহত হতে পারে। ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে বেনামি মালিকানার মাধ্যমে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা মোকাবিলায় আগের কঠোর আইনি কাঠামো বজায় রাখা জরুরি ছিল।

সাইফুল ইসলাম মিলন অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে সুস্পষ্ট আইনি ক্ষমতা ছিল, তা এই বিলের মাধ্যমে সংকুচিত করা হতে পারে, যা ব্যাংক খাতে আস্থা আরো কমিয়ে দেবে।

বিরোধিতার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছিলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা এবং গুড গভর্ন্যান্স—এই তিনটিই বিএনপির মূল নীতি। আমরা আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বাস্তবতা বুঝতে হবে। ইতোমধ্যে সরকার ব্যাংক খাতে ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে, আরো প্রায় এক লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণ সময়ে কোনো সরকারের পক্ষে এত বিশাল পরিমাণ অর্থ বহন করা সম্ভব নয়।

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, লুণ্ঠনকারীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং বাজারভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে সচল রেখে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখাই এই বিলের মূল লক্ষ্য।

গত বছরের মে মাসে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অধ্যাদেশ এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। আর আমানতকারীদের মাঝে ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার দেওয়া হবে। এছাড়া আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ পাঁচটিসহ ডজনখানেক ব্যাংকে লুটপাট হয়। বেশির ভাগ ব্যাংক লুট করেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপ। বিএফআইইউয়ের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এস আলম গ্রুপ নামে-বেনামে দুই লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যান। বর্তমানে দেশে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির তালিকায় এস আলম গ্রুপের ১১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বৈষম্যমূলক নীতিতে ইলেক্ট্রনিক্স শিল্পের নতুন উদোক্তাদের বিনিয়োগ হুমকির মুখে

বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার

মানারাত ইউনিভার্সিটিতে আরবি ভাষা নিয়ে কর্মশালা

জবির উপপরিচালক সাইফুল ইসলামের সাফল্য

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বিটিকেজি এক্সপো’

উত্তরার সেন্টার পয়েন্টে এক্সক্লুসিয়ার নতুন আউটলেট উদ্বোধন

রূপালী ব্যাংকের খুলনা বিভাগীয় ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

২০২৫ সালে সিটি ব্যাংকের রেকর্ড ১,৩২৪ কোটি টাকা মুনাফা

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

এলএনজি-এলপিজি নিয়ে দেশের পথে আরও ৫ জাহাজ