হোম > বাণিজ্য

১৫ প্যাকেজে ৬৬৮১ কোটি টাকা বিতরণ

রোহান রাজিব

আমার দেশ গ্রাফিক্স

বন্ধ কলকারখানা চালু করাসহ স্থবির অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই প্রণোদনা প্যাকেজের ১৫টি স্কিমের আওতায় এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে। অপরদিকে, বন্ধ কারখানা চালুর জন্য গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের সুদহার মাত্র ৫ শতাংশ। এ ঋণ পেতে সময়ও কম লাগে। সাধারণত ১৮০ দিনের জন্য ঋণ দেওয়া হয়। রপ্তানি আয় আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক ঋণের অর্থ সমন্বয় করে নেয়। ফলে এ ঋণের বিপরীতে ঝুঁকি কম থাকায় দ্রুত বিতরণ হচ্ছে। অন্যদিকে, বন্ধ কারখানা চালুর ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তহবিল পেলে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে। ব্যবসায়ী সংগঠন থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। আবার ব্যাংকগুলোর পর্ষদ সভা নিয়েও জটিলতা রয়েছে। ফলে এ খাতের ঋণ ছাড়ে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে।

জানা গেছে, ১৫টি প্যাকেজের আওতায় মোট ৯ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা চেয়ে গ্রাহক পর্যায় থেকে আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো ৬ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার অর্থ ছাড় করেছে। এখনো ৪ হাজার ৫৯১ কোটি টাকার আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত চালু করার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের বিপরীতে ৮০৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা চেয়ে গ্রাহকরা আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৫০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এখনো ৭৫৮ কোটি ৩১ লাখ টাকার আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সিএমএসএমই খাতের চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ খাত থেকে ২৫৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এর পুরো অর্থই এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পল্লি এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম থেকে ৬১ লাখ টাকা চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। এ খাত থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ বিতরণ হয়নি।

এছাড়া প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বিতরণের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৬৪৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কটেজ ও মাইক্রো খাতের উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিশেষ স্কিমে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। পিকেএসএফের মাধ্যমে পরিচালিত এ প্যাকেজে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে।

বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত ১ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন স্কিমে ৮০০ কোটি টাকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত ১ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন স্কিমের পুরো অর্থই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গ্রিন ফ্যাক্টরি বিল্ডিং ও গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি খাতের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ২৩৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের পুরো অর্থই বিতরণ করা হয়েছে। স্টার্টআপ খাতে অর্থায়নের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্কিমে ৫ কোটি টাকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৩২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বিতরণ হয়েছে।

চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রপ্তানিমুখী খাতে অর্থায়নের জন্য গঠিত ২ হাজার কোটি টাকার স্কিমে ৯৩ কোটি টাকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চার খাতে আবেদন নেই

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত বিভিন্ন স্কিমে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ থাকলেও চারটি খাতে এখন পর্যন্ত অর্থ নিতে কোনো আবেদন আসেনি। এসব খাতে মোট ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

এগুলো হলো—উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র সৃষ্টির লক্ষ্যে গঠিত ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, রপ্তানি বহুমুখীকরণ খাতের ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ১ হাজার কোটি টাকার স্কিম এবং হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানিমুখী খাতে অর্থায়নের জন্য গঠিত ২ হাজার কোটি টাকার প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম।

প্রণোদনা কর্মসূচির নীতিমালা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গত মঙ্গলবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হতে দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া এবং ঋণের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে। যার কারণে ঋণ বিতরণ কম হচ্ছে। তাই এসব সমস্যা সমাধান করে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সুবিধা নিতে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হলেও বিভিন্ন ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে অনেকে আবেদন করতে পারছেন না। অনেক ব্যাংক আবেদন নিতে চাইছে না। আবার কেউ কেউ নানা অজুহাতে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিপত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা দ্রুত দূর করে জমা পড়া আবেদনগুলো নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ব্যাংকগুলোতে আবেদন জমা পড়ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান যোগ্য, তাদের আবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাচ্ছে। তা যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ থেকে অর্থছাড়ে খুবই আন্তরিক।’

উল্লেখ্য, গত ২৩ মে বন্ধ কলকারখানা চালু করাসহ স্থবির অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বড় আকারের এ প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা হবে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল। এ অর্থ আসবে তফসিলি ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে, যা সরকারি গ্যারান্টির আওতায় থাকবে। প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আইএফআইসিতে বেঙ্গল গ্রুপের খেলাপি ১,৫৬০ কোটি টাকা

ভঙ্গুর অর্থনীতি সামলাতে দেশীয় কৌশলেই এগোচ্ছে সরকার

২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৬ শতাংশ

বৈদেশিক ঋণের অর্থ সংরক্ষণে এফসি হিসাব খোলার সুযোগ

ঢাকা শহরে প্ল্যান ছাড়া বানানো ভবনগুলো শনাক্ত করছি: গণপূর্তমন্ত্রী

একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

সাত দশকেও শেয়ারনির্ভর ডিএসই

পিকেএসএফ পাচ্ছে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ

১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প একনেকে উঠছে আজ

স্বাভাবিক হচ্ছে ৩০ ব্যাংকের এটিএম ও কার্ড সেবা