রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) ধাক্কা লেগেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ১০৪ মিলিয়ন ডলারের এফডিআর এসেছে, যা ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৪ সাল থেকে প্রান্তিকভিত্তিক এফডিআইয়ের হিসাব প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের এফডিআই প্রবাহ ছিল সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালানগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থন পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, শ্রমিক আন্দোলন এবং ক্রমাগত অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাই বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। এসব অস্থিরতা কমে গেলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে বলেও জানান তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে (জুলাই-সেপ্টম্বর) নিট এফডিআই এসেছিল ৩৬০ মিলিয়ন ডলার। সেই অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের একই সময় নিট এফডিআই কমেছে ৭১ শতাংশ। আবার গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় কমেছে প্রায় ৬২ শতাংশ।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল না। এছাড়া বিভিন্ন কারখানায় একাধিক বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে এ সময়ে এফডিআই বাড়ার আশা করা বাস্তবসম্মত ছিল না। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঠিক হলে বিদেশি বিনিয়োগ আবারও গতি ফিরবে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর নতুন ও পুনর্বিনিয়োগ কমেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলানয় নতুন বিনিয়োগ কমেছে ৪৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও পুনর্বিনিয়োগ ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ। তবে এ সময় আন্ত কোম্পানি ঋণ পরিশোধ ১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে নিট বিনিয়োগ কমে গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ অর্থবছরেও নিট এফডিআই কমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছর দেশে ১৪৭ কোটি ডলারের এফডিআই এসেছে। এই বিনিয়োগ তার আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ কম।