হোম > বাণিজ্য

স্বস্তি নেই বাজারে, দাম বেড়েছে আটা-ময়দা-ডিম ও মাছের

নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের বাড়তি চাপ

সরদার আনিছ

বাজারে সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম চড়া। শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় সবজি সাজিয়ে রাখেন এক বিক্রেতা।ছবি: আমার দেশ

নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে স্বস্তি নেই সাধারণ মানুষের। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিম, মাছ, মুরগি, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলের দামও রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচ বেড়েই চলেছে। শুক্রবার নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও কেরানীগঞ্জের বউবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই চিত্র লক্ষ করা গেছে।

শুক্রবার দুপুরে নয়াবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে খোলা আটার দাম ছিল ৪৫ টাকা এবং ময়দা ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেট ময়দা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, ৫০ কেজির ময়দার বস্তার দাম ২,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,৮০০ টাকা হয়েছে।

ময়দার দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বনরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্যে। গত শনিবার থেকে রুটি, কেক ও বিস্কুটের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তা আপাতত স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে আগের দামে সব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ছুটির দিনে চাহিদা বেশি থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ৭০ থেকে ৮০, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ৯০, গোল বেগুন ১১০ থেকে ১৪০, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ১৮০ থেকে ২০০ এবং পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম বলেন, বৃষ্টির কারণে বর্তমানে সবজি সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দাম কিছুটা বাড়তির দিকে থাকলেও নতুন সবজি বাজারে এলে কয়েকদিনের মধ্যে দাম দ্রুত কমে যেতে পারে।

ডিমের বাজারে তুলনামূলক বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাস আগে ডজনপ্রতি দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ এ সময় ডিমের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। দেড় মাস আগে এর দাম ছিল প্রায় ২০ টাকা কম। সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ এবং হাইব্রিড মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গরুর মাংসের দাম ৮০০ এবং খাসির মাংসের দাম ১,২৫০ টাকায় কেজিতে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাছের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। বর্তমানে রুই ৪০০ থেকে ৪২০, কাতলা ৪২০ থেকে ৪৪০, পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, চিংড়ি ১,০০০ থেকে ১,৩০০, টেংরা প্রায় ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ এবং দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ইলিশের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আকারভেদে রাজধানীর বাজারে ইলিশ ৮৫০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মাছ বিক্রেতারা জানান, বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে।

এদিকে কর-শুল্ক কমানোর সুফলও খুচরা বাজারে পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে চাল, আটা, গম, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ ৬৩টি নিত্যপণ্যে কর কমানো হয়। কিন্তু ভোক্তারা জানান, এতে বাজারে প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি। বরং কিছু পণ্যের দাম আরো বেড়েছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, কর কমানোর পরও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম কমেনি। বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বাণিজ্য সহজীকরণে ডব্লিউটিওর শর্ত বাস্তবায়নের তাগিদ

চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীরা ফেরত পাবেন ৫০ লাখ টাকা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দেশের দক্ষ শ্রমিকদের বড় সুযোগ

চার ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন

কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়ল

আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা থাকবে যে কারণে

চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রোডম্যাপ তৈরিতে মতামত নেওয়া হবে অংশীজনদের

সরবরাহ স্বাভাবিক ও কড়া মনিটরিংয়ের নির্দেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের

আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত চার শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান

বাংলাদেশ-জাপান ব্যবসায়িক সম্পর্কে নতুন দ্বার উন্মোচন