দেশে হঠাৎ ডলারের দাম বেড়ে গেছে। ব্যাংকগুলো এতদিন বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৩৫ পয়সা দরে ডলার কিনছিল। তবে আজ মঙ্গলবার তা কিনেছে ১২২ টাকা ৯০ পয়সায়। ফলে আমদানিতে ডলারের দাম ১২৩ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে। এক সপ্তাহ আগেও আমদানিতে ১২২ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দাম নিয়েছিল ব্যাংকগুলো। বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটিতে টানা সাত দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। নিয়ম অনুযায়ী, বন্ধের সময়কার এলসি পরিশোধ এখনই করতে হবে। এতে ডলার কেনার চাহিদা বেড়েছে। আবার ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বাংলাদেশি অধ্যুষিত অনেক এলাকার শিল্পকারখানা ও ব্যাংক শাখা বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধজনিত অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশি রেমিট্যান্স হাউসগুলোও ডলারের জন্য বেশি দাম প্রস্তাব করছে। এতে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে।
আজ মঙ্গলবার একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, আমদানির এলসি নিষ্পত্তি করতে ১২২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৯০ পয়সা লাগবে; যা আগের দিন ছিল ১২২ টাকা ৫৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৭২ পয়সা পর্যন্ত। শীর্ষ ব্যাংকগুলোতেই এলসি নিষ্পত্তিতে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহেও আমদানি এলসি নিষ্পত্তির দর ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৩৫ পয়সা।
তিনি বলেন, এভাবে হঠাৎ দাম বৃদ্ধি করলে এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ডলার মার্কেট স্থিতিশীল ছিল। ফলে বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এখনই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে ডলার সংকট তৈরি না হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত মুদ্রার হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গতকাল আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৫৮ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। আগের দিন প্রতি ডলার ছিল ১২২ টাকা ৪৯ পয়সা। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে যা ১২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করছিল।
এদিকে খোলাবাজারে নগদ ডলারের দর বেড়ে ১২৫ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৮০ পয়সায় উঠেছে, গত সপ্তাহে যা ছিল ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৬০ পয়সা। ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই খোলাবাজারে ডলারের দর বাড়তে শুরু করেছে।