হোম > বাণিজ্য

আর্থিক খাত ঠিক করতে অলিগার্কদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে

ব্যাংকিং-এ নৈতিকতায় অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার

আর্থিক খাত ঠিক করতে হলে অলিগার্কদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, লুটেরা ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ না হলে ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন সম্ভব হতো না। লুণ্ঠনকারীরা শুধু লুণ্ঠন করেই চুপ ছিল না, তারা এই অর্থ দেশের বাইরে পাচার করে দিয়েছে। চোরতন্ত্রের ক্ষমতাকাঠামো ভেঙে চুরমার করতে না পারলে ব্যাংক ব্যবস্থায় নিয়মকানুন ফেরার আশা করা দুরাশা মাত্র। অর্থবহ কিছু অর্জন করতে হলে অলিগার্কদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে।

শনিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট আয়োজিত ‘ব্যাংকিংয়ে নৈতিকতা’ শীর্ষক ২৩তম নুরুল মতিন স্মারক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মিরপুরে বিআইবিএম মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বিআইবিএম মহাপরিচালক এজাজুল ইসলাম এতে স্বাগত বক্তব্য দেন।

স্মারক বক্তৃতায় জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, একটি ব্যাংকের মূল চালিকাশক্তি হলো তার ঘূর্ণায়মান তহবিল। ব্যাংক ঋণ দেবে, সেই ঋণের কিস্তি ও সুদ ফেরত আসবে এবং তা দিয়ে আবার নতুন ঋণ দেওয়া হবে। কিন্তু বাংলাদেশে ৩২ শতাংশের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ায় এই চক্রটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সহজ কথায়, আমানতকারীদের রাখা প্রতি ৩ টাকার ১ টাকাই বাজারে আটকে গেছে। একই অবস্থা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত ও শেয়ারবাজারেও বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিগত দিনে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো থেকে যে বিশাল অঙ্কের অর্থ বেহাত ও লুণ্ঠিত হয়েছে, তার ফলে অনেকগুলো ব্যাংক ফোকলা হয়ে গেছে। ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি ভালো ব্যাংকও আজ দুর্দশায় পড়েছে। দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। পরিস্থিতি আরও সঙ্গিন হয়ে উঠেছে, সিংহভাগ আমানতকারী তাদের অর্থ একসঙ্গে পরিশোধের দাবি জানায়। এর ফলে বাংলাদেশের আর্থিক খাত ভয়াবহভাবে রুগ্‌ণ হয়ে পড়েছে।

মাহবুব উল্লাহ বলেন, পরিচালকরা নিজ ব্যাংক ছাড়া অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারেন। কয়েকটি ব্যাংক নিয়ন্ত্রকদের চোখের সামনে নিয়মকানুন দুমড়ে-মুচড়ে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি দৃষ্টে মনে হয়, ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ লোপাট করার জন্য একটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত আঁতাত বা নেক্সাস গড়ে উঠেছিল। এই নেক্সাসে ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তাব্যক্তি, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীবর্গ এবং লুটেরা ব্যবসায়ীরা। এরকম একটি নেক্সাস না থাকলে ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হওয়া সম্ভব হতো না। লুণ্ঠনকারীরা শুধু লুট করেই বিরত থাকেনি, তারা এই অর্থ দেশের বাইরে পাচার করেছে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এই টাকাগুলো কোথায় আছে? ব্যাংকিংয়ের নৈতিকতা সম্পর্কে আমরা যত কথাই বলি না কেন, চোরতন্ত্রের ক্ষমতাকাঠামো ভেঙে চুরমার করে দিতে না পারলে ব্যাংক ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণকানুনের প্রত্যাবর্তনের আশা করা দুরাশা মাত্র।

মাহবুব উল্লাহ বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন পরিবর্তন করে খেলাপিদের ঋণ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংক খাতে আইনের শাসনের পরিবর্তে শাসকদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ব্যাংক পরিচালনায় কিছু নৈতিকতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এই নীতিগুলো নির্দেশ করে কীভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের আস্থা রক্ষায় কাজ করবে।

মাহবুব উল্লাহ বলেন, অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে স্বজনতোষণ প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। অনুপার্জিত আয় বা রেন্ট সিকিং সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করে আছে। দুর্নীতি সর্বব্যাপক। এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিপক্ব পুঁজিবাদের উপযোগী ব্যাংকিং নৈতিকতা কার্যকর হবে—এমন চিন্তা বাস্তবসম্মত নয়। আমরা যদি এই মুহূর্তে অর্থবহ কিছু অর্জন করতে চাই, তাহলে অলিগার্কদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংযোগ ছিন্ন করতে হবে। তাতেও আপত্তি আছে। কারণ, এই অলিগার্করা অর্থনীতির ভ্যালুচেইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং অর্থনীতির সরবরাহব্যবস্থা তাদের হাতে। তারা চাইলে অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারেন। এজন্য তাদের অসন্তুষ্টি রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের কাম্য নয়। এখানেই ব্যাংকিং নৈতিকতার এবং বাস্তবতার প্যারাডক্স।

অনুষ্ঠানে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, মাহবুব উল্লাহ তার বক্তব্যের শেষাংশে একটি গভীর দার্শনিক প্রশ্ন ছুড়েছেন—বাংলাদেশের অপরিণত পুঁজিবাদী কাঠামোয়, যেখানে রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীস্বার্থ পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, সেখানে প্রকৃত ব্যাংকিং নৈতিকতা বাস্তবসম্মত কি না। এ সংশয় অমূলক নয়। আমি বলতে চাই—রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীস্বার্থের সেই বন্ধন ভাঙার প্রথম পদক্ষেপই হলো একক পরিবার বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ সীমিত করা, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বোর্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং অর্জিত সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আইনিভাবে প্রমাণ করা। যে কাজগুলো আমরা ইতোমধ্যে শুরু করেছি। ব্যাংক কোনো ব্যক্তির নয়, বরং তা সমাজ ও রাষ্ট্রের অগণিত আমানতকারীর—এ দর্শন বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বিজিএমইএ কাপ ২০২৬’-এর ট্রফি উন্মোচন

স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৩৪ হাজার

স্বস্তি নেই নিত্যপণ্যের বাজারে, বেড়েছে আটা ডিম মাছের দাম

১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি আগস্টে

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বিএফআইইউ

৮২ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি শপিং জোনের

‘নতুন করে শিল্পে সরাসরি বিনিয়োগ নয়, বেসরকারি খাতকে আরো সক্রিয় করা হবে’

জ্বালানি সংকটে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি: বিজিএমইএ সভাপতি

ব্যাংক প্রতিনিধি পরিচালক হওয়ার শর্ত কঠিন করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের পেমেন্ট তাৎক্ষণিক জমা দিতে হবে