নেপালের লুম্বিনীতে বৌদ্ধ মঠ কমপ্লেক্স বানিয়ে দেবে বাংলাদেশ সরকার। দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্ট। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৬৮ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকল্পটিসহ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প।
বুধবার চলতি অর্থবছরে সরকারের ৬ষ্ঠ সভায় অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হবে ৯টি প্রকল্প। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারপারসন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এ প্রকল্পটির সম্পূর্ণ ব্যয় বাংলাদেশ সরকারের। দেশটির লুম্বিনির ৭৫২ একর এলাকায় এ মঠ বানানো হবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে। বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ, বহুসংস্কৃতির দেশ হিসাবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করাই এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজকের একনেক সভায় ৬টি মন্ত্রণালয়ের মোট ১০টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে, যার মধ্যে ৬টি নতুন এবং ৪টি সংশোধিত। এসব প্রকল্পের জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৪০১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। যার মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৩ হাজার ৯০৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৮৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪০৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
প্রকল্পের সূত্র মতে, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য চারটি পবিত্র স্থানের মধ্যে লুম্বিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। এই ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ স্থানটি 'লুম্বিনি উন্নয়ন ট্রাস্ট' দ্বারা পরিচালিত। নেপাল সরকার লুম্বিনি এলাকাটির যথাযথ সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য লুম্বিনি উন্নয়ন ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেছে।
নেপাল সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, লুম্বিনি ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ‘লুম্বিনি সংরক্ষণ’ এলাকায় নিজস্ব খরচে বৌদ্ধ মঠ ও সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী আছে এমন দেশগুলোকে বিনামূল্যে জমি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘোষণার আওতায় বাংলাদেশ প্যাগোডা (মঠ) ও বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য লুম্বিনি ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট বাংলাদেশকে প্রায় ৬ একর জমির একটি প্লট প্রদান করেছে। এ প্রেক্ষিতে প্রাপ্ত প্লটে 'বাংলাদেশ প্যাগোডা ও বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স' স্থাপনের জন্য বিবেচ্য প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
একনেক সূত্র জানায়, সভায় ভৌত অবকাঠামো বিভাগের ৫টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে নেওয়া চট্টগ্রাম কর ভবন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৩৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মোংলা বন্দরের জন্য সহায়ক জলযান সংগ্রহ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে ১৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা, এস্টাব্লিশমেন্ট অব গ্লোবাল মেরিটাইম ডিসট্রেস অ্যান্ড সেফটি সিস্টেম অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম (ইজিআইএমএনএস) (চতুর্থ সংশোধিত) প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয় বাড়ছে ১১৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার এবং বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে ২২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
অন্যদিকে কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের ৩টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। এই বিভাগের প্রকল্পগুলো হলো-২৬৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে টেকসই পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদারকরণ প্রকল্প (২য় পর্যায়), ৪৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকার সিলেট বিভাগে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রীজ পুনঃনির্মাণ/পুনর্বাসন (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে ৪৩৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। শিল্প ও শক্তি বিভাগ উপস্থাপন করবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ডুপিটিলা-১ ও কৈলাশটিলা-৯নং কূপ (অনুসন্ধান কূপ) খনন প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৪৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আর আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ উপস্থাপন করবে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কনস্ট্রাকশন অব বাংলাদেশ ‘বুদ্ধিস্ট মনাস্ট্রি কমপ্লেক্স অ্যাট লুম্বিনি কনজারভেটিভ এরিয়া, নেপাল’ প্রকল্প। এই প্রকল্পটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ কোটি টাকা।
এ ছাড়া একনেকে অবগতির জন্য ৯টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। যেগুলো ইতিমধ্যে পরিকল্পনা উপদেষ্টা তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে অনুমোদন দিয়েছেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে-রংপুর বিভাগীয় সদর দপ্তর কমপ্লেক্স বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি'র বাংলো নির্মাণ (১ম সংশোধিত), সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীতকরণ (২য় সংশোধিত), উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুবিধাবঞ্চিত ৮৬টি এলাকা ও নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্প (২য় সংশোধিত), পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং ও টংগিবাড়ী উপজেলাধীন বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প (২য় সংশোধিত), বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (২য় পর্যায়), আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রজেক্ট-২য় পর্যায় (২য় সংশোধিত) প্রভৃতি।
এমএস