হোম > বাণিজ্য

উনসত্তর থেকে ছাব্বিশ: অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন যারা

বাণিজ্য ডেস্ক

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, বাজারব্যবস্থা, আর্থিক সংকট, কর্মসংস্থান, বৈষম্য ও মানুষের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত—অর্থনীতির এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৬৯ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার। গত ৫৭ বছরে এ পুরস্কার পেয়েছেন বিশ্বের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদেরা। তাদের গবেষণা শুধু অর্থনৈতিক তত্ত্বের বিকাশেই নয়, বিভিন্ন দেশের সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

নোবেল পুরস্কারের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদ রবার্ট আর্নেস্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ডের নাম ঘোষণা করা হয়। কার্যকর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নীতি বাস্তবায়নে সহায়ক নতুন সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল উন্নয়নে অবদানের জন্য তাদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের গবেষণা অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওঠানামা মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অর্থনীতিতে নোবেল

১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সভেরিজেস রিক্সব্যাংকের উদ্যোগে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক নাম ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরস্কার’। ১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের অর্থনীতিবিদ র‍্যাগনার ফ্রিশ ও নেদারল্যান্ডসের অর্থনীতিবিদ জান টিনবার্গেনকে। অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণে গতিশীল মডেল উন্নয়ন ও প্রয়োগের জন্য তারা এ সম্মাননা পান।

এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাজারের কার্যকারিতা, মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দারিদ্র্য, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও আর্থিক সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন অমর্ত্য সেন, পল ক্রুগম্যান, ড্যানিয়েল কাহনেম্যান, জোসেফ স্টিগলিটজ, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, এস্থার ডুফলো ও ক্লডিয়া গোল্ডিনের মতো প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ।

পুরস্কার পেয়েছেন যারা

১৯৬৯ সালে র‍্যাগনার ফ্রিশ ও জান টিনবার্গেনকে দিয়ে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। চলতি বছর রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ডসহ গত ৫৭ বছরে মোট ১০১ জন অর্থনীতিবিদকে এই স্মারক পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। ১০১ জনের এই তালিকার মধ্যে রয়েছেন—পল এ. স্যামুয়েলসন, সাইমন কুজনেটস, জন আর. হিকস, কেনেথ জে. অ্যারো, ওয়াসিলি লিওন্টিফ, গুনার মিরডাল, ফ্রিডরিখ হায়েক, লিওনিদ কান্টোরোভিচ, ট্যালিং কুপম্যানস, মিল্টন ফ্রিডম্যান, বার্টিল ওহলিন, জেমস ই. মিড, হার্বার্ট এ. সাইমন, থিওডর ডব্লিউ. শুলৎজ, আর্থার লুইস, লরেন্স আর. ক্লেইন, জেমস টোবিন, জর্জ জে. স্টিগলার, জেরার্ড দেব্রু, রিচার্ড স্টোন, ফ্রাঙ্কো মোদিগলিয়ানি, জেমস এম. বুকানান জুনিয়র, রবার্ট এম. সলো, মরিস আল্লে, ট্রিগভে হাভেলমো, হ্যারি মার্কোভিটজ, মার্টন মিলার, উইলিয়াম শার্প, রোনাল্ড কোস, গ্যারি বেকার, রবার্ট ফোগেল, ডগলাস নর্থ, জন ন্যাশ, জন হারসানি, রাইনহার্ড জেলটেন, রবার্ট লুকাস জুনিয়র, জেমস মিরলিস, উইলিয়াম ভিকরি, রবার্ট মার্টন, মাইরন স্কোলস, অমর্ত্য সেন, রবার্ট মুন্ডেল, জেমস হেকম্যান, ড্যানিয়েল ম্যাকফ্যাডেন, জর্জ অ্যাকারলফ, মাইকেল স্পেন্স, জোসেফ স্টিগলিটজ, ড্যানিয়েল কাহনেম্যান, ভার্নন স্মিথ, রবার্ট এঙ্গেল, ক্লাইভ গ্রেঞ্জার, ফিন কিডল্যান্ড, এডওয়ার্ড প্রেসকট, রবার্ট আউমান, টমাস শেলিং, এডমন্ড ফেলপস, লিওনিদ হারউইচ, এরিক মাসকিন, রজার মায়ারসন, পল ক্রুগম্যান, এলিনর অস্ট্রম, অলিভার উইলিয়ামসন, পিটার ডায়মন্ড, ডেল মর্টেনসেন, ক্রিস্টোফার পিসারাইডিস, টমাস সার্জেন্ট, ক্রিস্টোফার সিমস, অ্যালভিন রথ, লয়েড শ্যাপলি, ইউজিন ফামা, লার্স পিটার হ্যানসেন, রবার্ট শিলার, জ্যাঁ তিরোল, অ্যাঙ্গাস ডিটন, অলিভার হার্ট, বেঙ্গট হলমস্ট্রম, রিচার্ড থ্যালার, উইলিয়াম নর্ডহাউস, পল রোমার, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, এস্থার ডুফলো, মাইকেল ক্রেমার, পল মিলগ্রোম, রবার্ট উইলসন, ডেভিড কার্ড, জশুয়া অ্যাংগ্রিস্ট, গুইডো ইমবেনস, বেন বার্নানকে, ডগলাস ডায়মন্ড, ফিলিপ ডিবভিগ, ক্লডিয়া গোল্ডিন, ড্যারন অ্যাসেমোগলু, সাইমন জনসন, জেমস এ. রবিনসন, জোয়েল মোকির, ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট।

যেসব গবেষণা বদলে দিয়েছে অর্থনীতির ধারণা

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তদের গবেষণার বিষয় এক নয়। কেউ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও প্রযুক্তির সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেছেন, কেউ বাজারের সীমাবদ্ধতা, কেউ দারিদ্র্য ও উন্নয়ন, আবার কেউ মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনের মনস্তাত্ত্বিক কারণ নিয়ে কাজ করেছেন।

১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে পুরস্কার পাওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের গবেষণায় দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ, কল্যাণ অর্থনীতি ও মানুষের সক্ষমতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তার কাজ উন্নয়নকে শুধু আয় বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের সুযোগ ও সক্ষমতার আলোকে দেখার ধারণাকে শক্তিশালী করেছে।

২০০১ সালে জর্জ অ্যাকারলফ, মাইকেল স্পেন্স ও জোসেফ স্টিগলিটজ বাজারে অসম তথ্যের প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য পুরস্কার পান। ক্রেতা ও বিক্রেতার কাছে সমান তথ্য না থাকলে বাজারে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে, তাদের গবেষণা তা ব্যাখ্যা করে।

২০০২ সালে ড্যানিয়েল কাহনেম্যান অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার অন্তর্দৃষ্টি যুক্ত করার জন্য পুরস্কার পান। একই বছর ভার্নন স্মিথ পরীক্ষামূলক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে পরীক্ষাগারভিত্তিক পদ্ধতির প্রয়োগের জন্য সম্মাননা পান।

২০০৮ সালে পল ক্রুগম্যান বাণিজ্যের ধরন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে গবেষণার জন্য পুরস্কার পান। ২০১৯ সালে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, এস্থার ডুফলো ও মাইকেল ক্রেমার দারিদ্র্য বিমোচনে পরীক্ষামূলক পদ্ধতির প্রয়োগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

২০২২ সালে বেন বার্নানকে, ডগলাস ডায়মন্ড ও ফিলিপ ডিবভিগ ব্যাংক ও আর্থিক সংকট নিয়ে গবেষণার জন্য পুরস্কার পান। তাদের কাজ ব্যাংকের ভূমিকা, আর্থিক সংকটের বিস্তার এবং সংকট মোকাবিলায় নীতিনির্ধারণের গুরুত্ব বোঝার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।

২০২৩ সালে ক্লডিয়া গোল্ডিন নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ ও কর্মক্ষেত্রে তাদের অবস্থান সম্পর্কে বোঝাপড়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য পুরস্কার পান। ২০২৪ সালে ড্যারন অ্যাসেমোগলু, সাইমন জনসন ও জেমস এ. রবিনসন প্রতিষ্ঠান কীভাবে গড়ে ওঠে এবং সমৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে, সে বিষয়ে গবেষণার স্বীকৃতি পান।

২০২৫ সালে জোয়েল মোকির, ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সৃজনশীল ধ্বংস তত্ত্বের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করার জন্য পুরস্কার পান।

২০২৬ সালের বিজয়ী রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ডের গবেষণা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে। তাদের কাজের মাধ্যমে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের মতো ক্ষুদ্র পর্যায়ের আচরণকে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ওঠানামার সঙ্গে যুক্ত করে অর্থনৈতিক নীতি বিশ্লেষণের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে পার্থক্য

অর্থনীতির এ সম্মাননাকে সাধারণভাবে ‘অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার’ বলা হলেও এটি আলফ্রেড নোবেলের মূল উইলে উল্লিখিত পাঁচটি পুরস্কারের একটি নয়। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সভেরিজেস রিক্সব্যাংক তাদের ৩০০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুরস্কারটি প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৬৯ সাল থেকে প্রতিবছর এটি দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের নির্বাচন করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

অর্থনীতিতে এ সম্মাননা সময়ের সঙ্গে গবেষণার বিষয়বস্তুর বিস্তৃতিও তুলে ধরেছে। একসময় অর্থনৈতিক মডেল, প্রবৃদ্ধি ও বাজারের তত্ত্ব বেশি গুরুত্ব পেলেও পরবর্তী সময়ে দারিদ্র্য, বৈষম্য, মানুষের আচরণ, নারীর কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং সংকট ও প্রতিষ্ঠানগত কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ, অর্থনীতিকে কেবল উৎপাদন, আয় ও বাজারের হিসাব হিসেবে নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রা ও সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত একটি বিস্তৃত গবেষণাক্ষেত্র হিসেবেও দেখার সুযোগ তৈরি করেছে পুরস্কারটি।

উদ্ভাবনে জোর দিয়ে পোশাকশিল্পের নতুন যাত্রার উদ্যোগ

এক প্রতিষ্ঠান থেকে তিন পরিচালক নিয়োগের সুযোগ পেল ব্র্যাক ব্যাংক

বেক্সিমকো গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংকের

দেশে তিন মাসে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ

সুদহারের সীমা মানছে না ৫৬ ব্যাংক

বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় বাধা সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব

সংসার চালাতে হিমশিম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

নামমাত্র জনবলে শত শত কোম্পানির নিরীক্ষা, গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন

৩৫ বীমা কোম্পানির কাছে পাওনা ৪৬৬০ কোটি টাকা

কমেছে বিদেশি বিনিয়োগ, বেড়েছে বৈদেশিক ঋণ