চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে একটি গোডাউনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৬০ থেকে ১৭০ টন এলাচ মজুদের তথ্য পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১১ মাসে মজুদ করা ১৫ টন এলাচের মাত্র আধা টন বিক্রি করেছে। আরেকটি প্রতিষ্ঠান ৩০ টন এলাচ বিক্রির রশিদ দেখালেও পণ্য সরবরাহ করেনি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিচালিত অভিযানে এসব তথ্য উঠে আসে।
অভিযানে এলাচ মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টার দায়ে হোসেন করপোরেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই গোডাউনে সংরক্ষিত আমদানিকৃত জিরার মূল বস্তায় উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকায় আরাফাত ট্রেডিংকে জরিমানা করা হয় আরো ৪০ হাজার টাকা। অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় এ অভিযান পরিচালনা করে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, খাতুনগঞ্জের বিমল বাবুর গোডাউনে হোসেন কর্পোরেশন ২০২৫ সালের নভেম্বরে ১৫ টন এলাচ মজুদ করে। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করেছে মাত্র আধা টন। অবশিষ্ট সাড়ে ১৪ টন এলাচ দীর্ঘদিন ধরে মজুদ রয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ও ঘনিয়ে এসেছে। অধিদপ্তরের ভাষ্য, এভাবে পণ্য আটকে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
একই গোডাউনে প্রাইম ট্রেডিংয়ের গত দুই মাসে ধাপে ধাপে ৪৭ টন এলাচ মজুদের তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটি এ সময়ে ৩০ টন এলাচ বিক্রির রশিদ দেখালেও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ডেলিভারি সম্পন্ন হয়নি। বিক্রয় রশিদ যাচাইয়ে বিভিন্ন ধাপে দাম বাড়ানোর তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
এলাচের ক্রয়মূল্য, ভাউচার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য প্রাইম ট্রেডিংকে আগামী রোববার প্রয়োজনীয় রেকর্ডসহ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের অযৌক্তিক মজুদ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও পণ্য সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে সতর্ক করা হয়।
বাজারে ন্যায্যমূল্য ও পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।