সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোখলেসুর রহমান বলেন, আমানতকারীরা আমাদের কাছে নিরাপদ রয়েছেন। গ্রাহক সেবার জন্য যা যা করার দরকার তা আমাদের বোর্ড ও ম্যানেজমেন্ট থেকে করা হচ্ছে। দেশের প্রতি ও গ্রাহকদের প্রতি আমাদের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
বুধবার ব্যাংকটির ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মঈনুল কবীর, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবিউল ইসলাম এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসাইনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান বলেন, ব্যাংকের মূল ব্যবসাই হলো আস্থা। এক সময় মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাস ছিল যে ছাপার কাগজে কোনো মিথ্যা কথা লেখা হয় না; এই আস্থা তৈরি হয়েছিল দীর্ঘদিনের নৈতিক চর্চা এবং উচ্চমানের মানদণ্ড বজায় রাখার মাধ্যমে। আমাদের বোর্ডে ও ম্যানেজমেন্টে দক্ষ ব্যক্তিরা রয়েছেন। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, তবে আস্থা এমন একটি জিনিস যা তৈরি হতে দীর্ঘ সময় লাগে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল নিজেদের সাফল্য নয়, বরং দেশের সাফল্য; তাই আমরা কৃষি এবং খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। একইসাথে যারা বিদেশে কাজ করতে চায় তাদের জন্য ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস এবং আমাদের দেশের যে বিশাল তরুণ প্রজন্ম রয়েছে, তাদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলে জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি আরো বলেন, আমাদের ব্যাংকিং খাতে ঋণের টাকা অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কোনো তরুণ উদ্যোক্তা মুরগির খামারের জন্য ঋণ নিয়ে সেই টাকা ওই খামারেই বিনিয়োগ করে, তবে ব্যবসায়িক ক্ষতি হলেও ব্যাংক তাকে পুনরায় সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। কিন্তু সমস্যা তখন হয়, যখন ঋণের টাকা ব্যবসার কাজে ব্যবহার না করে জমি কেনা বা অন্য অনুচিত কাজে সরিয়ে নেওয়া হয়, যা ব্যাংকিং নিয়মবহির্ভূত।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের এমডি মঈনুল কবীর বলেন, গ্রাহকদের আস্থা নিয়ে এসবিএসি ব্যাংক পরিচালনা হচ্ছে। গ্রাহকদের আস্থা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবো। এসবিএসি ব্যাংক তারল্য সংকটে নেই। তারল্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক। আমরা আগ্রাসী বিনিয়োগ বিশ্বাসী না। দেখে দেখে ভালো গ্রাহকদের মাঝে বিনিয়োগ করছি।
খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বড় বড় ঋণগ্রহীতারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন নীতি সহায়তা প্রদান করেছে। যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের এই সুবিধাগুলো দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, যারা ইচ্ছাকৃত খেলাপি অর্থাৎ টাকা থাকার পরও পরিশোধ করছে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ঋণ আদায়ের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ব্যাংক এখন বড় ঋণের চেয়ে মাঝারি, উদীয়মান এবং ক্ষুদ্র সেক্টরের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে চায়। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তা এবং যারা ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে আছেন, তাদের নিয়ে ব্যাংকটিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। শ্রেণিবদ্ধ ঋণ কমিয়ে একটি সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসার জন্য প্রতিদিন কাজ করা হচ্ছে।