হোম > বাণিজ্য > ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

সোনালীর প্রভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক

রোহান রাজিব

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে সামগ্রিক ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমেছে। ফলে ঋণ প্রবৃদ্ধির হারও ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সামগ্রিক ব্যাংক খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১.৩৯ শতাংশ। এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণস্থিতি কমে ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় নেমে গেছে। মূলত সোনালী ব্যাংকের ঋণস্থিতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংক হলো—সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল)।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সোনালী ব্যাংক ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা এখন নাজুক। কিছু ব্যাংক ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে। আবার যেসব ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, তাদেরও খেলাপি ঋণের হার বেশি। ফলে নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এসব ব্যাংক। অন্যদিকে সোনালী ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও ব্যাংকটি সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের সামগ্রিক চিত্রে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের ঋণস্থিতি ছিল তিন লাখ ৫১ হাজার ৫৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তিন মাসে ঋণস্থিতি কমেছে তিন হাজার ৫৭২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বা ১.০২ শতাংশ। এর আগের প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় ঋণস্থিতি কমেছিল ০.৫১ শতাংশ।

ব্যাংকগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মার্চ শেষে সোনালী ব্যাংকের ঋণস্থিতি ছিল ৯০ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। জুন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। তিন মাসে ব্যাংকটির ঋণস্থিতি কমেছে চার হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা বা ৫.৪৯ শতাংশ।

সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংক এখন ঋণ আদায়ে বেশি মনোযোগী। নতুন ঋণ খুব বেশি দেওয়া হচ্ছে না। আমানতের বেশিরভাগই সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। আদায়ের তুলনায় ঋণ বিতরণ সেভাবে না হওয়ায় ব্যাংকের ঋণস্থিতি কমে গেছে।

জানা গেছে, ব্যাংকের ঋণের প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ার ফলে গত ১৩ জুলাই সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) ঋণ বিতরণ বাড়ানোর নির্দেশ দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

ঋণস্থিতি কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী খানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

একই সময় জনতা ব্যাংকের ঋণস্থিতি কমেছে ৫২৯ কোটি টাকা। মূলত ব্যাংকটির ঋণ দেওয়ার মতো অবস্থা নেই। কারণ, ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশই খেলাপি। এক সময় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই ব্যাংক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বেক্সিমকো, এস আলম, অ্যানটেক্স, ক্রিসেন্ট ও থার্মেক্স গ্রুপের ঋণসংক্রান্ত নানা অনিয়মের কারণে ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে। এসব ঋণ আদায় না হওয়ায় নতুন ঋণ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই ব্যাংকটির।

তবে জুন প্রান্তিকে অগ্রণী ব্যাংকের ঋণস্থিতি বেড়েছে ৮৭ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ১০৫০ কোটি, বেসিক ব্যাংকের ১২ কোটি এবং বিডিবিএলের ২৭ কোটি টাকা।

এ ছাড়া চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ০.২২ শতাংশ হয়েছে। তবে এ সময় বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল। এ দুই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ২.০৫ শতাংশ ও ২.৫২ শতাংশ।

জানতে চাইলে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘জুন কোয়ার্টারে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি কিছুটা নেতিবাচক হয়েছে। মূলত জ্বালানি সংকট ও কিছু রপ্তানি কার্যক্রমে বিলম্বের কারণে সাময়িকভাবে ঋণের ব্যবহার কমেছে। তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। বর্তমানে নতুন করে প্রচুর অর্ডার আসছে। ফলে খুব শিগগির এ সংকট কেটে যাবে এবং অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য ইতিবাচক দিকে ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমরা আশা করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘জুন প্রান্তিকে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বাজেটের দিকে লক্ষ্য রাখেন। এ সময় শুল্কহারে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটিও তারা পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় নেন। এ কারণে এ সময়ে ঋণ বিতরণেও কিছুটা স্থবিরতা দেখা যায়।’

১৪ মাস পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

সঞ্চয়পত্রে চালু হলো অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম

ঋণখেলাপি হওয়ায় আলী আফজালকে রিহ্যাব সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি

এমডিদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ-এমডি ছাড়াই চলছে ইসলামী ব্যাংক

এমডিদের ১০০ নম্বরের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতের মুনাফায় হেয়ারকাট বাতিল

এখনো ধুঁকছে আইএফআইসি ব্যাংক

শীর্ষ ১০ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা

এখনো ধুঁকছে আইএফআইসি ব্যাংক