হোম > বাণিজ্য > ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

সাউথইস্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ৭১ শতাংশই শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের

রোহান রাজিব

খেলাপি ঋণ আদায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বেসরকারি খাতের সাউথইস্ট ব্যাংক। তবে শীর্ষ খেলাপিদের নিয়ে বিপাকে রয়েছে ব্যাংকটি। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাউথইস্ট ব্যাংকের মোট দুই হাজার ৫১৩ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের প্রায় ৭১ শতাংশ আটকে আছে শীর্ষ ১০ খেলাপির কাছে। এসব খেলাপির কাছে ব্যাংকটির পাওনা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ দুই খেলাপি প্রতিষ্ঠান কেয়া ও এস আলম গ্রুপের কাছেই প্রায় এক হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ। ব্যাংকটির ডিসেম্বরভিত্তিক খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ৫ আগস্টের পর শীর্ষ খেলাপিদের কেউ পালিয়ে গেছেন, কেউ জেলে রয়েছেন, অনেকে আবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। ফলে তাদের থেকে টাকা আদায় সম্ভব হচ্ছে না।

শীর্ষ ১০ খেলাপির মধ্যে কেয়া গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৪৯৮ কোটি টাকা। কেয়া গ্রুপ তাদের সাবানের জন্য জনপ্রিয়তা পেলেও গার্মেন্ট ব্যবসা ব্যর্থ হওয়ায় সেই সাফল্যের গল্প ম্লান হয়ে যায়। এর ফলে ঋণদাতা সাউথইস্ট ব্যাংক বিপদে পড়ে। ব্যাংকিং নিয়ম ভেঙেও তারা গ্রুপটিকে ঋণ দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ঋণের নামে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে অর্থ লোপাট করার কারণে কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল খালেক পাঠানসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই রাজধানীর গুলশান শাখা থেকে ওই পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এক্ষেত্রে ব্যাংকের এই শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে জাল-জালিয়াতিতে ব্যবহার করা হয় ভুয়া কাগজপত্র।

শীর্ষ খেলাপির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নাম রয়েছে বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের। এই ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ‍ঋণ ৪৭৪ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে ফার সিরামিকস লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ৩৩৮ কোটি টাকা, যার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন খাদিজা ফরহাদ রুহি। এরপর পদ্মা পলি কটন নিট ফেব্রিকস লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ১৭১ কোটি টাকা। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন পারভিন সুলতানা খান। টাং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ৬৬ কোটি টাকা।

এছাড়া বিশ্বাস গার্মেন্টসের খেলাপি ঋণ ৬৫ কোটি টাকা, যার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনউদ্দিন বিশ্বাস। ৫১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের, যার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাক্তার পারভীন ফাতেমা। রিয়েল এস্টেট এবিএন প্রপার্টিজ লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ৪১ কোটি টাকা, যার মালিক হলেন সৈয়দ শাহাবুদ্দিন আহমেদ। ইন্ট্রামেক্স গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৩৯ কোটি টাকা এবং নাসা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের ৩৬ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খালিদ মাহমুদ খান বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে সব পর্যায় থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে শীর্ষ খেলাপির মধ্যে এস আলম পালিয়ে গেছেন। আবার নাসা গ্রুপের মালিক জেলে আছেন। এর বাইরে কেয়া কসমেটিকসের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বহুবার বসা হয়েছে। তাদের ঋণ নিয়মিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা হয়তো এস আলমেরটা পারব না। তবে নাসা গ্রুপের কিছু টাকা শেয়ার লিয়েন করা আছে, সেগুলো বিক্রি করে আমরা হয়তো আমাদের কিছু লায়াবিলিটি অ্যাডজাস্ট করব।

তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত প্রত্যেক গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। গাজী গ্রুপ যদিও পুড়ে গেছে, কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা আদায়ের চেষ্টা করছি; কিছুটা পেয়েছি। আবার অন্যান্য যারাই খেলাপি আছে, পুনঃতফসিল করে ফেলছে। এর মধ্যে রূপায়ণ গ্রুপের ঋণ নিয়মিত করা হয়েছে।

ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে সাউথইস্ট ব্যাংকের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ ২০ গ্রুপের ঋণ ২১ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের ৫৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার কাছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের। ব্যাংকটিতে বসুন্ধরা গ্রুপের ঋণ তিন হাজার ২৮১ কোটি টাকা। এরপর মেঘনা গ্রুপের এক হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। স্প্যারো ক্রাউন গ্রুপের ঋণ এক হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা, স্নোটেক্স গ্রুপের এক হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা, আবুল খায়ের গ্রুপের এক হাজার ৪৬১ কোটি টাকা, চৈতি গ্রুপের এক হাজার ২৮১ কোটি টাকা, দেশবন্ধু গ্রুপের এক হাজার ২০৩ কোটি টাকা, এসিএস গ্রুপের ৯৮৬ কোটি টাকা, এমএস গ্রুপের ৮৭৯ কোটি টাকা এবং ক্যাপিটাল বনানী ওয়ান লিমিটেডের ঋণ ৮১৬ কোটি টাকা।

এছাড়া ম্যাকসন গ্রুপের ঋণ ৭৯৮ কোটি টাকা, রূপায়ণ গ্রুপের ৭৮১ কোটি টাকা, নাভানা গ্রুপের ৭০০ কোটি টাকা, গিভেন্সি গ্রুপের ৬৮৯ কোটি টাকা, ডিজাইনটেক্স গ্রুপের ৬৪৮ কোটি টাকা, টিকে গ্রুপের ৫৯৫ কোটি টাকা, সিটি গ্রুপের ৫৭০ কোটি টাকা, কেয়া গ্রুপের ৫১৫ কোটি টাকা, অ্যারন ডেনিম লিমিটেডের ৫০৯ কোটি টাকা এবং বেঙ্গল গ্রুপের ঋণ ৫০৭ কোটি টাকা।

সরকারের ৫২ দিনে ব্যাংক ঋণ ৪৪ হাজার কোটি টাকা

এস আলমকে গ্রেপ্তারের দাবি ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের

এস আলমের কাছে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ফেরাতে চাকরিচ্যুতদের অবস্থান

এক বছরে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে দেড় লাখ কোটি টাকা

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ কোটি টাকা ছুঁইছুঁই

বাজার থেকে ফের ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

আবারও নাবিল গ্রুপের এমডি ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব

কোম্পানি করদাতার রিটার্ন জমার সময় বাড়লো আরও একমাস

ছেঁড়া-ফাটা নোট নিয়ে কড়া বার্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের

ইসলামী ব্যাংকের এমডি ১৫ দিনের ছুটি চেয়ে দেড় মাসের ছুটিতে