হোম > বাণিজ্য > পুঁজিবাজার

আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করা হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

ছবি: মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব প্রক্রিয়া সহজ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, ব্যাংকে আবেদন করার তিনমাসের ঋণ পাওয়া যায় কিন্তু আইপিওর জন্য আবেদন করলে কবে তা অনুমোদন হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে কোম্পানিগুলো আগ্রহী হচ্ছে না। আইপিও প্রক্রিয়া সহজ ও কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, আইসিএমএবি ও মার্চেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসি বৈঠক করবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) আয়োজিত পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত ডিএসই টাওয়ারে অনুষ্ঠিত সভায় বিএসইসির কমিশনারগণসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, আইপিওতে আবেদন করার পর এটা কি অবস্থায় আছে সে ব্যাপারে কোনো তথ্য জানা যায় না। এগুলো ট্রেসিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। আগামীতে এসব ট্রেক করা হবে। ফলে আবেদনের সবশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে। আইপিও প্রক্রিয়া ব্যয়বহুল উল্লেখ করে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে না আসার জন্য এটিও একটি কারণ। তিনি স্টক এক্সচেঞ্জকে তালিকাভুক্তি ফি কমানোর আহ্বান জানান।

ডিরেগুলেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আগে সবকিছুতে বিএসইসির অনুমোদন নিতে হতো। এমনকি তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির কারখানা পরিদর্শন করতে হলেও। আমরা এটা চাই না। কোম্পানির অস্বাভাবিক লেনদেনের তদন্ত করার পর সেটির প্রতিবেদন বিএসইসিতে পাঠাতে হয়। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নিতে ততদিনে সে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে যায়। আমরা চাই স্টক এক্সচেঞ্জ যাতে তার দায়িত্ব পালন করে। এজন্য আমরা ডিরেগুলেশনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করছি। ইতোমধ্যে বাজারের নিয়ন্ত্রণমূলক মানদণ্ড নিধারণের ক্ষমতা স্টক এক্সচেঞ্জকে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে আরও ক্ষমতা দেওয়া হবে। কমিশন সব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। যেসব দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জের, সেগুলো তাদেরই পালন করতে হবে।স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসি একটি টিম হিসাবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের বর্তমান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হবে জানিয়ে মাসুদ খান বলেন,

বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে পূর্ণাঙ্গ ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। তবে আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএএস-৩৪ অনুসরণ করে সংক্ষিপ্ত আর্থিক প্রতিবেদন চালুর কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা আর পূর্ণাঙ্গ তিন মাসের রিপোর্ট চাইব না। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কনডেন্সড রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করবো।

কাগজনির্ভর কার্যক্রম কমিয়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মাসুদ খান বলেন, কমিশনের দায়িত্ব শুধু নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বাজারের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের করপোরেট জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আপনাদের মধ্য থেকেই এসেছি। আপনাদের কষ্ট, দুর্ভোগ ও বাস্তবতা আমরা বুঝি।

মাসুদ খান বলেন, বিএসইসির কার্যক্রম এখনও অনেকাংশে কাগজনির্ভর। কমিশনের সব রেগুলেটরি রিপোর্টিং ধীরে ধীরে ডিজিটাল করা হবে। এক্সবিআরএল, এক্সএমএলভিত্তিক রিপোর্টিং এবং ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করে তথ্য বিশ্লেষণও স্বয়ংক্রিয় করা হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, এখনও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের স্বাক্ষরের অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সমস্যা দূর করতে ডিজিটাল ট্রেডিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বাজারে টি+১ সেটেলমেন্ট চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়ে মাসুদ খান বলেন, এটি সময়ের দাবি। তবে শর্ট সেলিং বা স্ক্রিপ্ট নেটিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে বাজারের পরিপক্বতা বিবেচনা করে এগোতে হবে।

তিনি বলেন, অতীতে কয়েকটি বড় ফান্ডের অনিয়মের কারণে পুরো শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে বিভিন্ন আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

তিনি জানান, সিকিউরিটিজ ট্রাইব্যুনালকে কার্যকর করা এবং প্রয়োজনে বিশেষায়িত আদালত গঠনের বিষয়েও কমিশন কাজ করছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বিনিয়োগ করলেও মুনাফা বা মূলধন ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতার মুখে পড়েন বলে মন্তব্য করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, মূলধনী মুনাফা (ক্যাপিটাল গেইন) কর নির্ধারণের বর্তমান পদ্ধতি জটিল। এ বিষয়ে সহজ ও বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে কাজ করা হবে।

মাসুদ খান বলেন, দেশের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আর্থিক জ্ঞান এখনও সীমিত। অনেক বিনিয়োগকারী সিডিবিএলের এসএমএসও গুরুত্ব দিয়ে পড়েন না।

তিনি বলেন, বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক শিক্ষা বাড়ানো জরুরি। এ কাজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ডিবিএ-এর সহ-সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, স্ক্রিপ্ট নেটিংয়ের অনুমতি দেওয়া উচিত এবং কীভাবে T+1 বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি রোডম্যাপ থাকা প্রয়োজন।

ডিবিএ-এর সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী বলেন, গত ২১ মাসে বাজারে কোনো আইপিও আসেনি, কোনো উন্নয়ন হয়নি এবং বাজার ছিল নিষ্প্রাণ। ফলে আমরা ভুগছি।

আমরা সেই শাসন আমল থেকে বেরিয়ে এসেছি। ডিএসই যাতে তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারে, সেজন্য বাজারকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার দাবি জানান তিনি। সিডিবিএল এবং বিকাশ এর মতো ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোকে বাজারে নিয়ে আসার জন্য ডিএসইর উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলেও তিনি যোগ করেন।

বিএসইসির সাবেক কমিশনার আরিফ খান বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বাজারটি এখন সেকেন্ডারি-চালিত বাজারে পরিণত হয়েছে। এবং এই সেকেন্ডারি মার্কেট সাধারণ মানুষের জন্য একটি 'কসাইখানায়' পরিণত হয়েছে, যেখানে তারা সবসময় টাকা হারাচ্ছে।

কারসাজি বা ম্যানিপুলেশন বন্ধ করতে রিয়েল-টাইম নজরদারি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিএসইকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, সবাইকে পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রশ্রয় দেওয়ার মানসিকতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সবাইকে যার যার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে, আর ডিএসই তার নিজস্ব সঠিক ভূমিকা পালন করবে।

ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্টক এক্সচেঞ্জকে প্রাণবন্ত ও ক্ষমতায়ন করতে ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম বা প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনার আহ্বান জানান। এছাড়া সরাসরি লিস্টিংয়ের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিকে বাজারে আনার তাগিদ দেন তিনি।

বিএপিএলসির সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ বলেন, আইপিও প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করা উচিত এবং লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড প্রদানের ওপর ভিত্তি করে কোম্পানির শ্রেণিবিভাগ করা ঠিক নয়। তিনি তথাকথিত 'এজিএম পার্টি'র লোকেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এবং পরিচালক ও স্পন্সরদের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে বিএসইসির তিন কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব এবং মো. নাফিজ আল তারিক উপস্থিত ছিলেন।

এএস

লন্ডন এক্সচেঞ্জে লেনদেনে ফিরেছে বেক্সিমকো ফার্মা

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত হতে পারে বেক্সিমকো ফার্মা

৩০% লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি

শান্তিচুক্তির খবরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় উত্থান

পুঁজিবাজার মামলায় ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারে ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারে বড় পতন

চেয়ারম্যানের পর বিএসইসিতে তিন কমিশনার নিয়োগ

বিএসইসির চেয়ারম্যান হলেন মাসুদ খান

যে কারণে বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের হঠাৎ পদত্যাগ

বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ চার কমিশনারের পদত্যাগ