সম্পদমূল্যসহ অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোনো ধরনের গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিএসইসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিনিয়োগকারীদের প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়।
বিএসইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে যে, কোনো কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট সংশ্লিষ্ট ফান্ডের প্রতি ইউনিটের নিট সম্পদমূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে পুঁজিবাজারে লেনদেন হচ্ছে। মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের বাজারমূল্য ও তার অন্তর্নিহিত নিট সম্পদমূল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও অস্বাভাবিক ব্যবধান থাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার বিষয়। কারণ, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ফান্ডের অন্তর্নিহিত সম্পদের মূল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। কোনো মিউচুয়াল ফান্ডকে নগদায়ন করা হলে ইউনিটহোল্ডার কর্তৃক উক্ত ফান্ডের নিট সম্পদমূল্যের তুলনায় অধিক অর্থ পাওয়ার সুযোগ নেই।
ডিএসইর তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে ৫টি মিউচুয়ালফান্ডের লেনদেন সম্পদমূল্যের চেয়ে বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছে। এর মধ্যে সম্পদমূল্যের তুলনায় প্রায় ২৫০ শতাংশ বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছে ফার্স্ট প্রাইম মিউচুয়াল ফান্ড। ৯ টাকা সম্পদমূল্যের বিপরীতে এই ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হচ্ছে ৩১ টাকারও বেশি দরে। এরপর সম্পদমূল্যের তুলনায় ১০০ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড ও সিএপিএমআইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড। রিলায়েন্স-১ ২০ শতাংশের বেশি দরে ও আইসিবি এমপ্লয়িজ সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড ৫ শতাংশের বেশি দরে। বাকি ফান্ডগুলো অবশ্য সম্পদমূল্যের তুলনায় কম দরে কেনাবেচা হচ্ছে।
বিএসইসির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ফান্ডের প্রকৃত সম্পদমূল্য তথা ফান্ডের আর্থিক অবস্থা, ফান্ডের মেয়াদ, বিনিয়োগের ধরন বা পোর্টফোলিও এবং প্রকাশিত অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করে জেনে-বুঝে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।
মিউচুয়াল ফান্ডের গঠন ও বিনিয়োগের বিষয়ে বিএসইসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ড একটি সুসংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ মাধ্যম, যেখানে বিনিয়োগকারীদের অর্থ একত্রিত করে তা বিভিন্ন আর্থিক ইন্সট্রুমেন্ট ও সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়। মিউচুয়াল ফান্ড সাধারণত ট্রাস্ট কাঠামোর মাধ্যমে গঠিত হয় এবং ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ইউনিট ইস্যুর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ফান্ড গঠন করা হয়। সংগৃহীত অর্থ নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন আর্থিক ইন্সট্রুমেন্ট ও সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়।
মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ মূলত বিভিন্ন আর্থিক ইন্সট্রুমেন্ট ও অন্যান্য বিনিয়োগযোগ্য সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে, যা তাৎক্ষণিকভাবে নগদায়ন সম্ভব। এসব সম্পদের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ফান্ডের মোট সম্পদের মূল্য নির্ধারিত হয় এবং দায়দেনা বাদ দেওয়ার পর যে নিট সম্পদমূল্য পাওয়া যায়, সেটিই ফান্ডের নিট সম্পদমূল্য। ফান্ডের মোট নিট সম্পদমূল্যকে মোট ইউনিট সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রতিটি ইউনিটের বিপরীতে নিট সম্পদমূল্য নির্ধারণ করা হয়। অ্যাসেট ম্যানেজার নির্ধারিত বিধিবিধান অনুযায়ী মিউচুয়াল ফান্ডের এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে থাকে।