হোম > বাণিজ্য > অর্থনীতি

কৃষিতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, এগিয়েছে তিন বড় উদ্যোগ

বেলাল হোসেন

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনায় কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ণ তিন প্রতিশ্রুতি— কৃষক কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দাবি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনের পর এখন বড় চ্যালেঞ্জÑ এসব কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সুবিধা প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ তৈরি হয়েছে। তবে বৃহত্তর পরিকল্পনার আওতায় আগামী তিন বছরে প্রায় আড়াই কোটি কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, পাইলটিং পর্যায়ে ৪৩ লাখ কৃষকের ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ২০ হাজার ৭৪৮ জন কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।

কৃষক কার্ডকে কৃষকদের কাছে সরকারি কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, কৃষিযন্ত্র, সেচসহ সরকারের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা সরাসরি প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি খাল খনন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় খাল খনন ও পুনঃখননে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে। সারা দেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে কৃষি-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের আওতায় ৬,০০০ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় ৪৭৫ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরই মধ্যে প্রায় ৪৮৩ কিলোমিটার খালের কাজ শেষ হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আট কিলোমিটার বেশি কাজ হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচের পানির সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি জলাবদ্ধতা কমানো ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে।

২৫ লাখ চারা রোপণ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরেকটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি ছিল বৃক্ষরোপণ। ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় ছয় মাসে ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে পাঁচ বছরে সারা দেশে পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তিন কোটি গাছ লাগানো।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু নির্ধারিতসংখ্যক চারা রোপণ করাই নয়, এসব গাছের পরিচর্যা ও টেকসইভাবে বেড়ে ওঠার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং কৃষির অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে।

হাওড়ে ব্রি ধান-১১৮ সম্প্রসারণ

এদিকে কৃষিখাতে মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে হাওড়াঞ্চলে বোরো মৌসুমে ব্রি ধান-১১৮-এর সম্প্রসারণ অন্যতম। এ জাতের ধান অন্যান্য জাতের তুলনায় প্রায় ১০ দিন আগে কাটা যায়। হাওড়াঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় বোরো ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকায় আগাম পরিপক্ব হওয়া এ জাত কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করতে পারে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বোরো উৎপাদনের ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

সার নীতিমালায় পরিবর্তন

কৃষি উপকরণ ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সার নীতিমালা সংশোধন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সময়মতো কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া এবং সার বিতরণ ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও স্বচ্ছ করাই এ সংশোধনের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর কৃষি উপকরণ ও বীজের ওপর নির্ভরতা কমানোর অংশ হিসেবে ২০২৯ সালের মধ্যে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আমদানি করা পাটবীজের ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি কমাতে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কাজ করছে। এছাড়া পেঁয়াজ বীজ আমদানির ওপর নির্ভরতাও কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। দেশীয়ভাবে প্রয়োজনীয় বীজ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়িয়ে কৃষি খাতকে আরো স্বনির্ভর করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলোর প্রাথমিক বাস্তবায়নের পর এখন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এসব উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও টেকসই করা। বিশেষ করে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের কাছে সুবিধা পৌঁছানো, খনন করা খালগুলো কার্যকর রাখা, বৃক্ষরোপণের পরবর্তী পরিচর্যা নিশ্চিত করা এবং কৃষি উপকরণে আমদানিনির্ভরতা কমানোর বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব সেলিম খান আমার দেশকে বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের যে বিষয়গুলো রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন। এই তিনটিতে আমাদের ১৮০ দিনের যে টার্গেট দেওয়া হয়েছিল, আমরা ইতোমধ্যে সেগুলো অ্যাচিভ করেছি।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে কৃষক কার্ডের তথ্যভাণ্ডারের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের পরিচয়, কৃষিকাজ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে কৃষকদের সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ তথ্যভাণ্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খাল খনন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বিএডিসি একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে টাইমফ্রেম দিয়েছেন, আমাদের সময়ের মধ্যে আমরা কাজগুলো সুচারুরূপে এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আশা করছি।

বিএনপি মুখে এক, কাজে আরেক: নাহিদ

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, কাল বঙ্গভবনে শপথ

হলুদকে নিয়ে যত দাবি, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কি ততটা শক্ত?

ফরিদপুরে সিজারিয়ানের দেড় মাস পর রোগীর মৃত্যু

মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ লুট করাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য: গালিবাফ

নেতানিয়াহুকে চরমপন্থি বললেন ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা

সারা দেশে প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন শুরু

৯ শ্রমিকের মৃত্যুর পর বিএসবিআরএর পুরো কমিটি আত্মগোপনে

তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় ভারত: দীনেশ ত্রিবেদী

রোহিঙ্গাদের কারণে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে: সেনাপ্রধান