আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)। একই সঙ্গে নারী ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য এ সীমা সাড়ে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ আয়করের হার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সুপারিশও করেছে সংগঠনটি।
বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায় এ দাবি তুলে ধরা হয়। সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই।
এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিম্ন আয়ের মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার বাস্তবতা বিবেচনায় করমুক্ত সীমা পুনর্নির্ধারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই সাধারণ করদাতাদের জন্য এটি ৫ লাখ টাকা, নারী ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কর কাঠামো সহজ, যৌক্তিক ও বিনিয়োগবান্ধব হলে রাজস্ব আদায় বাড়বে, একই সঙ্গে করদাতাদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে। সে কারণে সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমানে ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নারী করদাতাদের জন্য ৪ লাখ টাকা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত সুবিধার আওতায় রয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় করমুক্ত সীমা বাড়ানো হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে ভোক্তা ব্যয় সক্ষমতা বাড়ায় সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আগামী জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে বিভিন্ন মহল থেকে করনীতি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে নানা প্রস্তাব আসছে। এর অংশ হিসেবেই এফবিসিসিআই তাদের সুপারিশ তুলে ধরেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা।
এমএমআর