হোম > বাণিজ্য > অর্থনীতি

২২ দিনের জ্বালানি নিশ্চিত, নতুন করে আনা হচ্ছে আরও তেল

ওয়াসিম সিদ্দিকী

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই, বরং চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। অথচ একটি অসাধু চক্র ব্যক্তিগত হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একইসঙ্গে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তির দোসররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তবে সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জ্বালানি নিয়ে কোনো প্রকার কারসাজি সহ্য করা হবে না এবং মজুত নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

​মজুত পরিস্থিতি ও সরকারি আশ্বাস

মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে তেলের সরবরাহ নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে সরকারের মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে এবং তেলের কোনো প্রকার সংকট নেই। সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, "দেশে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে; এ নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।"

​তিনি আরও জানান, স্পট মার্কেট থেকে প্রয়োজনে বেশি দামে তেল কিনে হলেও সরকার দেশে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করছে এবং ইতিমধ্যে নতুন তেলবাহী জাহাজ বন্দরে আসা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আরও প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ তেল মজুত আছে তা দিয়ে কোনো নতুন সরবরাহ ছাড়াই আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের স্বাভাবিক চাহিদা সম্পূর্ণভাবে মেটানো সম্ভব। যেহেতু পাইপলাইনে থাকা নতুন জাহাজগুলো নিয়মিতই দেশে পৌঁছাচ্ছে, তাই এই মজুত ও সরবরাহের ধারাবাহিকতা পুরোপুরি অক্ষুণ্ণ থাকবে।

​গোয়েন্দা নজরদারি ও অসাধু চক্রের তৎপরতা

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) কৃত্রিম জ্বালানি সংকটের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঢাকাসহ সারা দেশে কিছু অসাধু পেট্রোল পাম্প মালিক তেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চোরাই মার্কেটে তেল সরবরাহ করছে। আবার কিছু অসাধু পরিবহন সেক্টরের সঙ্গে জড়িত লোকজন বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প থেকে গাড়িতে তেল ভরে পরে তা সরিয়ে নিয়ে চোরাই মার্কেটে বিক্রি করছে।

​এই চক্রের অপতৎপরতার কারণে মূলত কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে তেলের দাম বাড়ানোর বা জনঅসন্তোষ তৈরি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ব্যাপক ধরনের গুজব। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতে পেরেছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের গুজব বাহিনী বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের সংকট নিয়ে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করছে।

​সাঁড়াশি অভিযানের প্রস্তুতি-

সারাদেশের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী পেট্রোল পাম্প মালিক এবং চোরাই তেল বিক্রির চক্রের জড়িতদের ইতিমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ বিষয়ে কালক্ষেপণ করলে গুজব ডালপালা মেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​নাগরিকদের প্রতি আহ্বান

এমতাবস্থায়, দেশের সর্বসাধারণকে এ বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভিত্তিহীন গুজব বা অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো। কিছু অসাধু চক্র ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির লক্ষ্যে বাজারে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা করতে পারে। তাই গুজবে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত করা থেকে বিরত থাকুন এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের ভূমিকা পালন করুন।

​সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য সর্বদা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর আস্থা রাখার জন্য সবাইকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

​তেল নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, তাদের দিন শেষ। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রশাসন এখন রাজপথে।

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দাম কমছে কেন, আরও কি কমবে

অনলাইন রিটার্ন জমা দিতে না পারলে সময় বাড়াবেন যেভাবে

প্রবাসী আয়ে চাঙা রিজার্ভ, তবে পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়

ঈদের আগে চাঙা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

তিন মাসে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স

ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি

আগামীকাল থেকে টানা সাতদিন ব্যাংক বন্ধ

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বৃদ্ধিতে অনলাইন সিস্টেম চালু এনবিআরের

ই-ভ্যাট রিটার্ন জমার সময়সীমা বাড়াল এনবিআর

টানা তিন দিন কমে স্বর্ণের ভরি কত?