হোম > বাণিজ্য > অর্থনীতি

নীতিমালা শিথিলের সুযোগে যেন ফের লুটপাট না হয়

অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

চলমান অর্থনীতির শ্লথগতি থেকে উত্তরণে নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল করা হলেও এর সুযোগ নিয়ে যাতে ফের লুটপাট ও অনিয়ম না হয়, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেছেন, সৎ ও প্রকৃত উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে সহায়তা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষাকবচ নিশ্চিত করা জরুরি।

বুধবার ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর মিরপুরে নিজস্ব অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বর্তমানে অর্থনীতির শ্লথ গতি এবং ব্যাংক ও শিল্প খাতের তারল্য সংকট থেকে উত্তরণে অনেকেই নিয়মকানুন শিথিল করার কথা বলছেন। অতীতে ব্যাংক খাতে বিধিবিধান অতিরিক্ত শিথিল করার কারণেই বর্তমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। অসাধারণ পরিস্থিতিতে অসাধারণ পদক্ষেপ নিতে হয়। তাই সংকট উত্তরণে নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল করা হলেও তা যেন নতুন করে লুটপাট ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ছাড়াই বেসরকারি খাতে ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার ফলে ভুল পথে যাত্রার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে উদারীকরণ এবং বেসরকারি খাতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আমরা নানা বিতর্ক ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। অতীতে কী কী ভুল করা হয়েছিল এবং সেসবের পরিণতি কী হয়েছিল, তা বর্তমান নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অতীতের সংকট, সংস্কারের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরামর্শ অন্ধভাবে অনুসরণ না করে দেশের নিজস্ব বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যাংকিং খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে।

তিনি বলেন, প্রথমবার ঋণখেলাপির মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কৃতি নষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয়বার তা নষ্ট হয়েছে ব্যাংক লুটপাটের মাধ্যমে, যা আরও বেশি মারাত্মক।

ব্যাংকিং খাতের উত্থান-পতনের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, নব্বইয়ের দশকে সংস্কারের পর বেসরকারি খাতের বেশ কয়েকটি ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হতে পেরেছিল। কিন্তু ২০১০ সালের পর যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই যত্রতত্র নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ায় এ খাতের আবারও অবনতি ঘটে।

তবে শুধু নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শুধু আইন বা বিধিবিধান দিয়ে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়। ব্যাংকিং, করপোরেট ও শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে ন্যূনতম নৈতিকতা থাকা আবশ্যক।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থার উন্নতি হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার বারবার ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক সরকারগুলোর পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অন্যায়ভাবে সুযোগ-সুবিধা বিতরণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতির হৃদ্‌পিণ্ডতুল্য এই আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতা থেকে মুক্ত রাখতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের (বিএবি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই সরকার, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (অথবা প্রাতিষ্ঠানিক পদবি অনুযায়ী সঠিক পদ) জ্যঁ পেম।

চীনে ছয় বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ

পোশাকশিল্পের টেকসই রূপান্তর তুলে ধরবে বাটেক্সপোর ‘ইমপ্যাক্ট জোন’

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

অর্থবছরের প্রথম তিন মাস বৈদেশিক সহায়তার দ্বিগুণ অর্থ ঋণ পরিশোধে ব্যয়

সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

বিশ্বব্যাংকের কাছে ১৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় সরকার

ভারতের শুল্কখড়্‌গের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পরামর্শ ট্যারিফ কমিশনের

অর্থনীতি আটকে আছে তিন ফাঁদে

কাঠামোগত ফাঁদে আটকে আছে দেশের অর্থনীতি: হোসেন জিল্লুর রহমান

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা কমাতে ডিজিটালাইজেশনে জোর টিসিবির