হোম > বাণিজ্য > অর্থনীতি

বিমান ও পর্যটন খাতে ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

স্টাফ রিপোর্টার

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে সরকার। এর পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক বিমান পরিবহন কেন্দ্রে রূপান্তরের একটি রোডম্যাপও উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই বরাদ্দ বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বরাদ্দের চেয়ে বেশি, যদিও এটি মূল বরাদ্দ ২ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকার চেয়ে কম।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকীকরণ এবং পর্যটননির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিমানবহর সম্প্রসারণ এবং সংযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, একটি আধুনিক, দক্ষ এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক বিমান পরিবহন শিল্প গড়ে তুলতে সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের টার্মিনাল সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্য প্রস্তুত। কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ের সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প সারাদেশে বিমানবন্দরের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, যাত্রীদের সুবিধা ও সেবার মান বাড়াতে শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতা ইতোমধ্যে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমানবহর আধুনিকীকরণ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটি আনুমানিক ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকার সমতুল্য) ব্যয়ে ১৪টি আধুনিক বিমান কেনার জন্য মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বিমানের বিমানবহর সম্প্রসারণ করবে, আন্তর্জাতিক সংযোগ শক্তিশালী করবে, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াবে এবং বৈশ্বিক বিমান পরিবহন বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে আরও জোরদার করবে।

মন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক বিমান চলাচল খাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার একযোগে যাত্রীসেবার আধুনিকীকরণ, কার্গো ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা মান উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে কাজ করছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব উদ্যোগ পর্যটন শিল্পের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান ছয় থেকে সাত শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু একটি জাতীয় বিমান সংযোগ গ্রিড স্থাপন, নতুন আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার তৈরি এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে সমন্বিত যাত্রী ও লজিস্টিকস কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকেও আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও পরিবহন সহজ করতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিমান চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার যাত্রীদের জন্য ঝামেলামুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, প্রবাসী কর্মীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটানো এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেবে।

বৃহত্তর পর্যটন উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে তিনি বলেন, আরও বেশি পর্যটক আকর্ষণ, উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ উৎসাহিত করার জন্য একটি বিনিয়োগ রূপরেখা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।

এআরবি

এবারের বাজেট ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব: ডিসিসিআই

টেলিকম খাতে করের চাপ কমছে, ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকার বরাদ্দ

তামাকপণ্য আরও সহজলভ্য হবে, হারাবে অতিরিক্ত রাজস্বের সুযোগ

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ছে ৯৫ কোটি টাকা

পর্যটন খাতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, গুরুত্ব পাবে ইকোট্যুরিজম

সাড়ে ৪২ লাখ কৃষক পাচ্ছেন ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা

তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা বাড়বে, হাতছাড়া হবে বাড়তি রাজস্বের সুযোগ

প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ কমছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের

হাউজি-বেটিং ও ঘোড়দৌড় আয়ে দিতে হবে ২৫ শতাংশ কর