হোম > বাণিজ্য > অর্থনীতি

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের মূলধারার অর্থনীতির বাইরে থাকা মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। নাগরিক হিসেবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ সবার অধিকার এবং সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে উদ্যোগ নিয়েছে।

রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু রাজনৈতিক কাঠামোয় গণতন্ত্র থাকলেই চলবে না, অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়ও তার প্রতিফলন থাকতে হবে। অতীতে দেশের অর্থনীতিতে একটি সীমিত ধনী গোষ্ঠী অধিক সুবিধা ভোগ করেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল কম। বর্তমান সরকার সেই চিত্র বদলে দিতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করছে। মানদণ্ড পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না। এ সময় পিকেএসএফের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যপরিধি আরও বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।

দেশের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসাব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এসব সেবা পৌঁছে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের প্রসঙ্গ টেনে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। অবশিষ্ট সুযোগ কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে চায় সরকার।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হস্তশিল্পের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি না হওয়ার কারণ হিসেবে পরিকল্পনার ঘাটতির কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটির মতো পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে, কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা, আধুনিক ডিজাইন ও কার্যকর বিপণন কৌশলের অভাবে দেশ সেই সুবিধা নিতে পারছে না। একটি ভালো নকশা কোনো পণ্যের মূল্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিল্প নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংগীত ও থিয়েটার খাতের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের অভাবে এসব খাতকে বৈশ্বিক বাজারে তুলে ধরা যাচ্ছে না। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের সংস্কৃতি বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে, বাংলাদেশকেও সেই পথে দ্রুত এগোতে হবে বলে মত দেন তিনি।

খেলাধুলাকেও একটি বড় অর্থনৈতিক খাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গন শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এটি পর্যটন, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তাই সম্ভাবনাময় এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিবার পরিচালনা ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে নারীদের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে অর্থের প্রবাহ বাড়াবে। একইভাবে কৃষক কার্ডও উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

এমবি

শতাধিক গ্রিন শিপইয়ার্ড করার পরিকল্পনা সরকারের

সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল বাংলাদেশ

নির্মাণ-উৎপাদন খাতে মন্দা কাটছে না, স্বস্তি কৃষিতে

দেশে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি প্রসারে সরকার কাজ করছে: অর্থমন্ত্রী

মেয়াদপূর্তির আগেই ১,৭১৬ কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ড কিনে নিল সরকার

ডলারের বিপরীতে ফের ৯৬.৮৪ রুপিতে নামল ভারতীয় মুদ্রা

২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৬ শতাংশ

পিকেএসএফ পাচ্ছে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ

১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প একনেকে উঠছে আজ

দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে: বিশ্বব্যাংক