হোম > রাজধানী

রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের দাপট, বাড়ছে উদ্বেগ

মাহমুদা ডলি

রাজধানীতে এবার পুলিশ ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হচ্ছে। দিনদুপুরে বিকাশ এজেন্ট লুটের ঘটনায় থানার ওসি ও এক এসআই আহত হওয়ার ঘটনা জানান দিচ্ছে, ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর। গোয়েন্দা তথ্যে ৪৬৬টি স্পটে প্রায় সহস্রাধিক ছিনতাইকারী শনাক্ত থাকলেও, পুলিশের বিশেষ অভিযানেও থামছে না এই অপরাধের তাণ্ডব। ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ আর মামলা-অনাগ্রহের আড়ালে ঢাকা এখন পরিণত হয়েছে ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে, যেখানে আইনের ফাঁক গলে অপরাধীরা ফিরছে বারবার।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আদাবরে এক বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে ছিনতাইকারীরা। অভিযুক্তদের ধরতে বিকেলে পুলিশের অভিযানে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হলে থানার ওসি ও এক এসআই আহত হন। পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে দুই ছিনতাইকারী আহত হয়। চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তারা দীর্ঘদিনের ত্রাস সৃষ্টিকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য।

কেবল মঙ্গলবারের ঘটনাই নয়, সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর পল্লবীর পলাশ নগর এলাকায় মির্জা রবিন (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রাজধানীর অলিগলিতে প্রতিদিন এমন চিত্র চললেও খুব কম ক্ষেত্রেই মামলা রুজু হয়। ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফেরা নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক। নতুন নতুন স্টাইলে এবং প্রাইভেটকার ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে চালানো এসব ছিনতাইয়ে টার্গেট হচ্ছেন চাকরিজীবী থেকে শুরু করে গৃহিণীরা। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) এবং গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যায়, রাজধানী ও এর চারপাশে ৪৬৬টি হটস্পটে ৯৬৯ জন সক্রিয় ছিনতাইকারী পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ঢাকার দেড় শতাধিক স্পট এখন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা এসবির ক্রাইম ডেটাবেস অনুযায়ী, গত মে মাসে রাজধানীতে ৩৩টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আর সারা দেশে গত এক মাসে ১৬৭টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অধিকাংশ ভুক্তভোগীই থানায় জিডি বা মামলা করতে আগ্রহী হন না। ফলে প্রকৃত ছিনতাইয়ের তুলনায় মামলার সংখ্যা অনেক কম। ডিএমপির ৫০টি থানায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ১১৬টি মামলা রুজু হয়েছে (ফেব্রুয়ারিতে ২৫, মার্চে ২৯, এপ্রিলে ২৬ ও মে মাসে ৩৬টি)। অর্থাৎ, প্রতি মাসেই ছিনতাই বাড়ছে। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, মুগদা, সবুজবাগ, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায় অপরাধ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, চুরি-ছিনতাইকে এখন আর সাধারণ অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। এরা পেশাদার অপরাধী এবং মারণাস্ত্র ব্যবহার করছে। আইন সংস্কারের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এরা ধরা পড়লেও খুব সহজে জামিন পেয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে ঢাকার পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে।’

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে ডিএমপি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ওসি আহত হওয়ার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুলিশের অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবে জমকালো কাওয়ালী সন্ধ্যা

নাগরিকদের দায়িত্ববোধ জাগাতে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ সাইকেল র‍্যালি

রাজধানীতে তিন যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু

১৫ আগস্টের উলামা-মশায়েখ সম্মেলন কাদিয়ানীবিরোধী আন্দোলনে নতুন ভিত্তি তৈরি করবে

রাজধানীর শাহজাদপুরে পুরনো দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু, আহত ২

হোটেল-স্পায় অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশ

১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে র‌্যাবের কড়া নজরদারি

গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীলতার আহ্বান

শাহবাগে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করল ডিএসসিসি

রাজধানীতে একদিনে তিনজনের লাশ উদ্ধার