ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের আট তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে নাজমীন আক্তার (২০) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে । রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে স্বজনরা জানিয়েছে।
নিহত নাজমীন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার জালাল মিয়ার মেয়ে। চার মাস বয়সী এক সন্তানের জননী ছিলেন তিনি।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র জানায়, নাজমিন কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহ পূর্বে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। রোববার রাতে তার মা বাথরুমে গেলে এবং বাবা একটি রিপোর্ট আনতে ওয়ার্ডের বাইরে গেলে সুযোগ বুঝে নাজমিন ভবনের পেছন দিক দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়েন। পরে লোকজনের ভিড় দেখে তার বাবা সেখানে গিয়ে মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের বাবা জালাল খন্দকার জানান, ২০২১ সালে নাজমিনের বিয়ে হয়। তার স্বামী রায়হান পেশায় কৃষক।
নাজমিন দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলেও তার স্বামী কোনো খোঁজ নিতেন না এবং চিকিৎসার খরচ বহন করতেন না। স্বামীর এই চরম অবহেলা ও অসুস্থতার যন্ত্রণা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, প্রাথমিকভাবে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে, মেয়েটি আত্মহত্যা করতেই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছেন। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও শাহবাগ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।