আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকার সড়কে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় মামলা চালু সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি বলেন, সার্জেন্ট বা ট্রাফিক পরিদর্শকদের ম্যানুয়াল মামলা খুব একটা করা লাগবে না। যেকোনো স্থানে ট্রাফিক আইন বা মোটর ট্রান্সপোর্ট আইন ভাঙলে স্বয়ংক্রিয় মামলা হবে।
সোমবার দুপুরে বিমানবন্দর ক্রসিংয়ে সৌর শক্তির ‘ট্রাফিক সিগনাল লাইট’ উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকার ৩০ পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে সফটওয়ারের মাধ্যমে যানবাহনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মামলা বা অটোমেটিক মামলা করা শুরু করেছি। বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের ক্যামেরা বসানো হবে বলেও জানান তিনি। ২০২২ সাল থেকে জরিমানা পরিশোধ করেনি, এমন প্রায় এক লাখ মামলা পুলিশের কাছে পড়ে ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ৬৭ হাজার মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আরো ৩৮ হাজার মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। সড়কে গতি আনতে ইতোমধ্যে ঢাকার প্রায় ৭০টি স্থানের কোথাও ইউটার্ন, কোথাও রাইট টার্ন বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকার গড় গতিবেগ ছিল ৫ কিলোমিটার এর নিচে, কিন্তু ২৫-২৬ সালে আমরা মনে করি ঢাকায় মহানগরের গাড়ির গড় গতিবেগ এখন ১০ কিলোমিটারের বেশি হয়ে গেছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত এক সপ্তাহে তিন শতাধিক মামলা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেখা যাবে, প্রতিদিন হয়ত এক হাজার মামলা হবে।
জানা গেছে, পুলিশ গত কয়েক মাসে জাহাঙ্গীর গেট থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সাতটি ক্রসিংয়ে সিগন্যাল লাইট বসিয়েছে। এছাড়া গুলশান-১ নম্বরে আগে থেকেই ছিল, আর গুলশান-২ নম্বরেও সিটি করপোরেশন সিগন্যাল লাইন স্থাপন করেছে বলে তথ্য দেন তিনি। হাইকোর্ট ক্রসিং থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং পর্যন্ত ছয়টি পয়েন্টে সিগন্যাল লাইট বসিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
এমপি