খেলার মাঠে ভবনের অনুমোদন
খেলার মাঠ হিসেবে নির্ধারিত জায়গায় ১০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদনের অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পাঁচ সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার আসামিরা হলেন- রাজউকের জোন-২ সাব-জোন-১ এর সাবেক অথরাইজড অফিসার ও ইমারত নির্মাণ কমিটির সদস্যসচিব (বর্তমানে শেরপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী) সরদার মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, রাজউকের সাবেক ইমারত পরিদর্শক মো. নাজিম উদ্দীন, সাবেক চীফ বিল্ডিং ইন্সপেক্টর (বর্তমানে মহাখালীতে সহকারী অথরাইজড অফিসার) শাহজাহান খান, সাবেক সহকারী অথরাইজড অফিসার খাইরুজামান, সাবেক প্রধান ইমারত ইন্সপেক্টর (বর্তমানে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নকশাকার) মো. মামুনুর রশীদ এবং জমির মালিক ও আবেদনকারী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মানসী বিশ্বাস বাদি হয়ে এ মামলা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অপরকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। তারা ঢাকা জেলার উত্তরখান মৌজার সিএস দাগ নং ৮৮৩ ও ৮৮৪ (অংশ) এবং আরএস দাগ নং ২৬৭৫ ও ২৬৮২ (অংশ) এর জমিতে জেনেশুনে আগের নকশা অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথমবার নকশা অনুমোদনের সময় শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, পার্শ্ববর্তী খেলার মাঠ হিসেবে রাখা অংশ আলাদাভাবে বিক্রয় বা হস্তান্তর করা যাবে না এবং এই অংশটি ছাড়া প্রস্তাবিত ইমারতের নকশার অনুমোদন বহাল থাকবে না। কিন্তু এই শর্ত গোপন করে জমির মালিক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আবারও প্ল্যান অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন। এরপর রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করে ওই খেলার মাঠ হিসেবে পরিগণিত জমিতে পুনরায় একটি বেজমেন্টসহ ১০ তলা আবাসিক ভবনের লে-আউট নকশা অনুমোদন করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে র্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।